ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট একটি গাইড বই চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলসহ স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুস সোবাহান রাজা এবং সদস্যসচিব আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট গাইড বই চালুর আশ্বাস দিয়ে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৪ লাখ টাকা শিক্ষক সমিতির রূপালী ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি অর্থ নগদে লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষক নেতার বক্তব্য জানতে চাইলে সদস্যসচিব আহসান হাবিব অভিযোগের বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, তিনি ঢাকায় থাকায় প্রতিবেদন জমা পড়ে থাকলেও এখনো তা দেখা হয়নি। তিনি আরও জানান, তদন্তকাজে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে একই বিষয়ে অন্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জেলা শিক্ষা অফিসারের বক্তব্য ভিন্ন ছিল বলে জানা গেছে, যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু