| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শার্শায় কেমিক্যাল ছিটিয়ে পাকানো হচ্ছে আম

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৩, ২০২৬ ইং | ১৭:১৫:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৬৯০ বার পঠিত
শার্শায় কেমিক্যাল ছিটিয়ে পাকানো হচ্ছে আম

বেনাপোল প্রতিনিধি: নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন ও উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেলতলা আম বাজারে অবাধে বিক্রি করছে জনপ্রিয় জাতের হিমসাগর আম।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের বেধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে ব্যাপকভাবে এসব আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের মধ্যে।

সরেজমিনে বেলতলা আমবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিক লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু আম ব্যবসায়ী ও কিছু চাষি অপরিপক্ক হিমসাগর আম গাছ থেকে নামিয়ে বাজারজাত করছেন। বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে হিমসাগর আম দেখা গেলেও অধিকাংশ আমই এখনও পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি। প্রতিদিন ভোর থেকে বেলতলা আম বাজারে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব আম আনা হচ্ছে। পরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর আমের সুনাম ও গুণগত মান ধরে রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়সূচি বা “আম ক্যালেন্ডার” ঘোষণা করে থাকে। সেই ক্যালেন্ডারে কোন জাতের আম কখন গাছ থেকে নামানো যাবে তা নির্ধারণ করা হয়। এবছর গোবিন্দভোগ বোম্বাইসহ দেশি জাতের আম বাজারজাতকরণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ মে হিমসাগর আম, ১৭ মে লেংড়া, ২৮ মে আম্রপালি-মল্লিকা, ৬ জুন থেকে বাজারজাত করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা মানছেন না। বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নিতে আগেভাগেই অপরিপক্ক আম বাজারে তোলা হচ্ছে।

বাজারে আম কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অনেক আমে স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু আম কাটার পর ভেতরে কাঁচা ও শক্ত দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অপরিপক্ক আম বাজারজাতের ফলে শুধু ক্রেতারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং এলাকার বিখ্যাত আমের সুনামও নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় দ্রুত পাকানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বেলতলা আম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অবশ্য দাবি করেছেন, বাজারের চাহিদা ও প্রতিযোগিতার কারণেই আগাম আম উঠছে। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আগেই আম নিতে আসছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামের আশায় আগাম আম সংগ্রহ করছেন।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিপক কুমার সাহা জানান, আম ক্যালেন্ডার নির্দেশনা উপেক্ষা সুযোগ নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে যদি কোন গাছের আম পরিপক্ব হলে সেক্ষেত্রে উপকৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যায়ন নিয়ে বাজারজাত করতে পারবেন। বাজার ঘুরে দেখা হবে কেউ কোন অপরিপক্ক আম বাজারজাত করছে কি না।

সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও চাষি-ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানো না গেলে শার্শার বিখ্যাত আমের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তার আস্থাও কমে যেতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪