মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ২০২৫-২৬ মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কার্যক্রমের শুরুতেই নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে অতিরিক্ত ধান নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গাড়ফা বাজার খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন বলা হলেও শুরু থেকেই সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে প্রতি বস্তায় ৪০ কেজি করে ধান সংগ্রহ করার কথা।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতি বস্তায় ৪২ কেজি করে ধান পরিমাপ করছেন। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
খাদ্য গুদামে দায়িত্বরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রতি বস্তায় ৪২ কেজি ধান নেয়া হচ্ছে। লেবার সরদার ফুরকান বলেন, “এই ধান গুদামে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হবে। সময়ের সঙ্গে ওজন কমে যেতে পারে, তাই অতিরিক্ত ধান নেয়া হচ্ছে। কেউ ৪০ কেজি দিতে চাইলে ধান ফেরত পাঠানো হবে।”
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসিএলএসডি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সরকারি বস্তার ওজন ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম হওয়ায় প্রতি বস্তায় ৪১ কেজি ধান নেয়া হচ্ছে। শুরুতে অতিরিক্ত ধান নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি বস্তার ওজনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ধান বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন, “সরকারিভাবে ধান দিতে পারাটাই বড় বিষয়। বাইরে বাজারের চেয়ে সরকার বেশি দামে ধান কিনছে। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি নেয়া ঠিক না।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করার পর তিনি খাদ্য গুদামে গিয়ে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলে সাংবাদিকদের জানানো হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, “নির্ধারিত পরিমাপের বেশি ধান নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” তিনি আরও জানান, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোল্লাহাট উপজেলায় মোট ৯০৮ মেট্রিক টন ধান এবং ১ হাজার ৩১৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এ সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে সচেতন মহলের কয়েকজনের অভিযোগ, অনানুষ্ঠানিকতার আড়ালে ধান-চাল সংগ্রহে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে অন্যদের মাধ্যমে ধান সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে সাধারণ কৃষক বঞ্চিত হতে পারেন।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু