| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২০, ২০২৬ ইং | ১২:৩১:৫২:অপরাহ্ন  |  ৮০৭ বার পঠিত
অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার: অপরাধী যেই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২০ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ডিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি আরও বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

ডিএমপি কমিশনার জানান, প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাসের এই মহানগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় রাজধানী গড়ে তুলতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিএমপি নিরলসভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর স্লোগান ‘আমার পুলিশ আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনকেই প্রতিফলিত করে।

সাইবার অপরাধ প্রসঙ্গে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার হ্যাকিং, বুলিং, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা প্রতিরোধে ডিএমপি কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এছাড়া সিটিটিসির অধীনে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে, যা তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকার যানজট সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ই-প্রসিকিউশন চালু হয়েছে। এতে আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে কমিশনার বলেন, কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের সময় নগরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

নগদ লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় অঙ্কের লেনদেন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র দমনে ডিবি ও থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সবাইকে অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করতে হবে।

শেষে তিনি বলেন, “পুলিশ, জনগণ ও গণমাধ্যম আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত করা সম্ভব।”


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪