ক্রীড়া ডেস্ক: উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফ্ফরভের চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিক, একের পর এক পেনাল্টি ভাগ্য, আর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডোরিয়েল্টন গোমেসের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক— সব মিলিয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনাল ম্যাচটি হলো পয়সা উসুলের। রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার নানা বাঁক পেরিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের স্বপ্ন ভেঙে ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতল বসুন্ধরা কিংস।
আজ বুধবার (২০ মে) কিংস অ্যারেনায় ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এই জয়ের মাধ্যমে ফেডারেশন কাপে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল কিংস। এটি টুর্নামেন্টে তাদের পঞ্চম শিরোপা।
অন্যদিকে, দুইবার এগিয়ে গিয়েও আবাহনীর রেকর্ড ১২টি শিরোপা ছোঁয়ার সুযোগ হাতছাড়া করল সাদা-কালো শিবির।
কিংস অ্যারেনায় ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের শুরুটা হয়েছিল রূপকথার মতো। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে ডি-বক্সের সামান্য উপর থেকে দুর্দান্ত এক কোনাকুনি ফ্রি-কিক নেন মোজাফ্ফরভ। কিংস গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জড়ায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে উল্লাসে মাতে মোহামেডান।
তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি এক মিনিটও। পরের মিনিটেই বক্সে কিংসের স্যামুয়েল রাকসামকে ফাউল করেন মোহামেডানের শাকিল আহাদ তপু। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে কিংসকে সমতায় ফেরান ডোরিয়েল্টন।
ম্যাচের ২২ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় মোহামেডান। এবার বক্সে ফাউল করেন কিংস অধিনায়ক তপু বর্মন। তবে মোজাফ্ফরভের নেওয়া পেনাল্টি শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে রুখে দেন কিংসের গোলরক্ষক শ্রাবণ।
পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ৩৪ মিনিটে আবারও লিড নেয় মোহামেডান। জাহিদ শান্তর পাস থেকে নিখুঁত প্লেসিং শটে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সৌরভ দেওয়ান। টুর্নামেন্টে এটি সৌরভের সপ্তম গোল।
এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতি থেকে ফিরেই খোলস ছেড়ে বের হয় কিংস। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে রাকিবের ডিফেন্স চেরা পাস ধরে মোহামেডানের ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডোরিয়েল্টন। ম্যাচে ফেরে ২-২ সমতা।
এরপর ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মোহামেডানের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল পেয়ে যান ডোরিয়েল্টন। বিদ্যুৎ গতিতে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান। সেই সঙ্গে পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক। চলতি প্রতিযোগিতায় ১২ গোল করে কিংসের জয়ের নায়ক বনে যান তিনিই।
৩-২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখে বসুন্ধরা কিংস।
রিপোর্টার্স/এসএন