আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাদাগিরি ও বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (২০ মে) রাশিয়া ও চীন এক যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানায়। এতে গত ছয় মাসে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সামরিক হামলা, এসব হামলার প্রস্তুতির আড়াল হিসেবে ভণ্ডামিপূর্ণভাবে আলোচনার ব্যবহার, সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাদের হত্যাকাণ্ড, বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, শাসন পরিবর্তনে উসকানি এবং জাতীয় নেতাদের প্রকাশ্য অপহরণ ও বিচারের মুখোমুখি করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তিও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন নিজেদের ক্রমশ একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অগ্রদূত হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
এদিকে চীন ও রাশিয়া বাণিজ্য, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
সমঝোতা স্বাক্ষরের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত হয়ে এখন সর্বোচ্চ স্তরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, দুই দেশ সমান মর্যাদার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করেছে। তার দাবি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন একটি নতুন সূচনা বিন্দুতে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষা এবং সব ধরনের একতরফা দাদাগিরি ও ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতে চীন ও রাশিয়াকে দৃঢ়ভাবে দায়িত্বশীল বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি