রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে ঈদযাত্রার এই আনন্দে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানা বৃষ্টি ও দীর্ঘ যানজট।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
ঈদের আগের দিন ভোর থেকেই ঢাকার আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। সকাল গড়াতেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও মহাসড়কে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত যানবাহনের দেখা পাননি। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক, পিকআপ ও মালবাহী যানবাহনে করেই গন্তব্যের পথে রওনা দেন তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভিজে দুর্বিষহ অবস্থায় ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন মানুষ। কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, আবার কোথাও নেই পর্যাপ্ত পরিবহন। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যেই ঈদযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন সাধারণ মানুষ।
এর আগের রাত থেকেই দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে তৈরি হয় তীব্র যানজট। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতভর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলতে দেখা যায়। গাজীপুরের প্রায় দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ আড়াই হাজারের বেশি শিল্পকারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হলে লাখো শ্রমিক একসঙ্গে বাড়ির পথে নামেন। এতে দুপুরের পর থেকেই বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও মহাসড়কে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে চন্দ্রা পার হতেই সময় লেগেছে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়, ফলে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েকগুণ।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বজ্রবৃষ্টি। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঈদযাত্রার এমন দুর্ভোগের মধ্যেও প্রিয়জনের কাছে ফিরতে মানুষের উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি। বৃষ্টি, যানজট আর দুর্ভোগ উপেক্ষা করেই ঘরমুখো মানুষের স্রোত ছুটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম