কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঢাকা থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা খুইয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দুই গরু ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার ভোর রাতে ঢাকা-কোটচাঁদপুর সড়কে চলাচলকারী জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা বাসটি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার কুশনা গ্রামের এবাদত মণ্ডলের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৫) এবং ফুলবাড়ি সমাজকল্যাণপাড়ার আবুবক্করের ছেলে অহেদুল ইসলাম ওরফে অতুল। তাদের মধ্যে অতুল এখনও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সবুজ হোসেন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা সাতটি গরু নিয়ে ঢাকার বসিলা হাটে বিক্রির জন্য যান। গরু বিক্রি শেষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গাবতলী থেকে জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে জেগে উঠে দেখেন, টাকার ব্যাগটি নেই। শুধু কাপড়ের ব্যাগটি ড্রাইভারের সামনের দিকে পড়ে ছিল। এ সময় অতুল অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
সবুজের অভিযোগ, পুরো ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারদের ভূমিকা সন্দেহজনক। তিনি বলেন, শুরুতে তার পাশে অতুলকে বসতে না দিয়ে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে বসানো হয়। পরে ওই ব্যক্তি নেমে গেলে আবার নতুন একজন যাত্রীকে বসানো হয়। এভাবে কয়েকবার যাত্রী পরিবর্তন করা হয়েছে। তার ধারণা, পরিকল্পিতভাবেই তাদের টার্গেট করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বাসকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কোটচাঁদপুর পৌঁছানোর পর স্বজনদের সহায়তায় বাসটি আটক করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
খবর পেয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি আটক করেন। বর্তমানে বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমরেন বিশ্বাস বলেন, অচেতন অবস্থায় দুই ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। তবে তারা এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।