| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিয়ের মধ্যে প্রচলিত ৩০ কুসংস্কার

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৫, ২০২৬ ইং | ২২:০৭:১৮:অপরাহ্ন  |  ১১৬৬ বার পঠিত
বিয়ের মধ্যে প্রচলিত ৩০ কুসংস্কার

রিপোর্টার্স ডেস্ক: বর্তমান সমাজে বিবাহকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রথা, কুসংস্কার, হিন্দুয়ানি রেওয়াজ চালু আছে। যেগুলোকে মানুষ বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে এবং এসব কুপ্রথা ব্যতীত কেমন যেন বিয়ে পূর্ণতা লাভ করে না। এখানে এ ধরনের প্রচলিত কিছু কুসংস্কার নিয়ে আলোচনা করব। মহান আল্লাহ তাওফিকদাতা।

১. পাত্রী দেখা

আমাদের সমাজে বিয়ের আগে পাত্রী দেখতে যাওয়ার নিয়ম আছে। এটি মুস্তাহবও বটে। কিন্তু সমস্যা হলো পাত্রী দেখতে যায় পাত্রের ভাই, বন্ধু, চাচা, খালু, মামাসহ অন্যান্য পুরুষ। এগুলোকে ইসলাম সমর্থন করে না। এক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ার বিধান হলো, যে বিয়ে করবে, সে পাত্রী দেখবে। পাশাপাশি তার মা-বোন বা নিকটাত্মীয় কোনো মেয়ে বা শিশুরাও চাইলে দেখতে পারবে। কিন্তু পাত্র ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের দেখার সুযোগ নেই।

২. গায়ে হলুদ

গায়ে হলুদকে কেন্দ্র করে নাচ-গান, বাজনা, বেপর্দা মেলামেশা, যুবক-যুবতীদের আড্ডা ইত্যাদি সবকিছু হয়, যা ইসলামি শরিয়াহ পরিপন্থি। এজন্য গায়ে হলুদ করা থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

৩. অত্যধিক জাঁকজমক ও আড়ম্বরতা

আজকাল বিয়ে-শাদিকে অনেক বেশি জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ করা হয়। অথচ হাদিসে আছে, ওই বিয়ে সবচেয়ে বেশি বরকতময় যে বিয়ের ব্যয় সবচেয়ে কম (শুআবুল ইমান : ৬৫৬৬)। অনেকে বিয়ে-শাদিকে জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ করার জন্য সুদের ওপর টাকা আনে, যা সম্পূর্ণ হারাম।

৪. নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ

বিয়েতে ইদানীং নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ সময়ের ‘শ্রেষ্ঠ’ প্রথায় পরিণত হয়েছে। বেগানা যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, মেলামেশা, গল্প-গুজব করা। একসঙ্গে নাচ-গান করা, সিনেমা, ভিডিও দেখা এবং ছেলে-মেয়ে সবাই পর পুরুষের বউ দেখা, যা চরম নিন্দিত, গর্হিত ও শরিয়ত বিবর্জিত কাজ। এসব কাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

৫. যৌতুক

আজকাল যৌতুক নেওয়া একটি সাধারণ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কনে পক্ষ যৌতুক দিতে বাধ্য হয়। অন্যথায় মেয়ের বিয়ে হবে না। এই যৌতুকের চাকায় পিষ্ট হয়ে অনেকে কনে সন্তানকে অভিশাপ মনে করে। 

অনেকে ব্যাংক থেকে লোন উঠিয়ে ছেলে পক্ষের চাহিদা পূরণ করে। অনেক পিতামাতা যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদের মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। এছাড়া অনেক পরিবারে বিয়ের পরে যৌতুকের কারণে কলহ লেগেই থাকে। বিয়ের পরে অনেক মেয়ের স্বামী ও স্বামীপক্ষের চাহিদা পূরণে কাঙ্ক্ষিত যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়, যা আজকাল করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আর কত মেয়ের যে সংসার যৌতুকের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে— এই হিসাব শুধু মহান আল্লাহ ভালো জানেন। অথচ এই যৌতুক ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম। এজন্য সুন্দর, সুখময় ও সোনালি দাম্পত্য জীবন গঠনে যৌতুক প্রথাকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে।

৬. গান-বাজনা করা

বিয়ে শাদিতে গান-বাজনা করা নাজায়েজ।

৭. উকিল বাপ

বিয়ে শাদিতে একজনকে উকিল বাপ বানানো হয় এবং উনাকে বাপের মর্যাদা দেওয়া হয়। উকিল কনেকে মাঝেমধ্যে তার বাসায় নিয়ে যান। জামা-কাপড় দেন। উকিল বাপের ছেলে-মেয়ে সবার সাথে কনে দেখা-সাক্ষাৎ করে। কথাবার্তা বলে। এক্ষেত্রে পর্দা করাকে জরুরি মনে করা হয় না। বরং মানুষ মনে করে, উকিল বাপ আসল বাপের মতোই। তেমনি উকিল বাপের ছেলে-মেয়েরা আপন ভাই-বোনের মতোই। অতএব এখানে পর্দার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

অথচ ইসলামে এ ধরনের উকিল বাপ বানানো হারাম। শরিয়তের নিয়ম হলো, উকিল হবে মেয়ের বাপ নিজেই। অথবা অভিভাবকদের মধ্য থেকে কোনো মাহরাম ব্যক্তি, যার সাথে মেয়ের দেখা দেওয়া জায়েজ আছে। ইসলামি বিয়েতে মেয়ের অভিভাবকের অনুমতি অবশ্যই প্রয়োজন। যেসব মেয়ের বাবা জীবিত আছেন তাদের বাবাই অভিভাবক। আরবিতে অভিভাবককে উকিল বলে। বাবার অবর্তমানে মেয়ের আইনগত অভিভাবক হবেন মেয়ের চাচা, মামা, ফুফা ইত্যাদি যিনি মেয়ের উকিলের দায়িত্ব পালর করবেন। আইনগত অভিভাবক ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে উকিল বানানো যাবে না।

৮. পাত্রকে সোনার আংটি পরানো

বিয়ের অনুষ্ঠানে ছেলের হাতে সোনার আংটি পরানো জরুরি মনে করা হয়। কারণ সোনার আংটি না পরালে নাকি মান-সম্মান থাকে না। অথচ পুরুষের জন্য সোনা ব্যবহার করা হারাম। عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ وَقَالَ : يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ. فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خُذْ خَاتَمَكَ انْتَفِعْ بِهِ . قَالَ لَا وَاللَّهِ لاَ أَخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم .

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাজি.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক লোকের হাতে একটি সোনার আংটি লক্ষ্য করে সেটি খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মাঝে কেউ কেউ আগুনের টুকরো জোগাড় করে তার হাতে রাখে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে স্থান ত্যাগ করলে ব্যক্তিটিকে বলা হলো, তোমার আংটিটি উঠিয়ে নাও। এটি দিয়ে উপকার হাসিল করো। সে বলল, না। আল্লাহর কসম! আমি কখনো ওটা নেব না। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো ওটা ফেলে দিয়েছেন। (মুসলিম : ২০৯০, আল মু’জামুল কবির : ১২০১১, বায়হাকি: ৩৯৩৪)

عن أبي أمامة الباهلي أنه سمع رسول الله صلى الله عليه سلم يقول: من كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فلا يلبس حريرًا ولا ذهبًا.

হজরত আবু উমামা (রাজি.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে সে যেন রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে। (মুসনাদে আহমদ : ২১৭৫৫-২১৭৫৬, মুস্তাদরাকে হাকিম : ৭৫০৮)

৯. মোহর

আমাদের দেশে মোহরকে সামাজিক প্রথা মনে করা হয়। অধিকাংশ লোকই এটা আদায় করার ইচ্ছা রাখে না। আবার অনেকে বাসর রাতে স্ত্রীর নিকট থেকে মোহর মাফ করিয়ে নেয়। মনে রাখতে হবে, মোহর নিছক সামাজিক কোনো প্রথা নয়। বরং এটা স্বামীর ওপর স্ত্রীর পাওনা। এই পাওনা অবশ্যই আদায় করতে হবে। যাদি স্ত্রী মোহর মাফ না করে, তাহলে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর মোহর অবশ্যই আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, বাসর রাতে স্ত্রীর কাছ থেকে মোহর মাফ করিয়ে নেওয়ার দ্বারা মোহর মাফ হবে না।

১০. বিয়ের গোসল

আমাদের দেশে ভাবিরা মিলে বরকে বিয়ের গোসল দেয়। এটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। তাই এটা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

১১. শ্যালিকা দ্বারা হাত ধোয়ানো

আমাদের সমাজে বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের হাত ধুয়ে দেয় তার প্রাপ্তবয়স্কা শ্যালিকা। অথচ এটা নাজায়েজ ও গোনাহের কাজ।

১২. নির্দিষ্ট দিন-তারিখে বিয়ে না দেওয়া

আমাদের সমাজে অনেকে নির্দিষ্ট দিন-তারিখে বিয়ে দেওয়া/করাকে অশুভ মনে করে। অথচ ইসলামে এটার কোনো ভিত্তি নেই।

১৩. কদমবুসি করা

বিয়ে-শাদিতে বর ও কনে মুরব্বিরদের কদমবুসি করে। এটি একটি মারাত্মক ধরনের কুসংস্কার। বিয়ে-শাদি ছাড়াও অন্য যে কোনো সময়ও কদমবুসি করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। (তিরমিজি : ২৭২৮)

এগুলো মূলত হিন্দুয়ানি প্রথা, যা আজকাল মুসলিমরা গ্রহণ করে নিয়েছে। এছাড়াও এমন প্রথা রয়েছে যে, বাঁশের কুলায় হলুদ, মেহেদি, চন্দন, কিছু ধান, দু-একটি কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেওয়া হয়। এরপর মাটির চাটিতে তেল দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। এরপর বর ও কনের কপালে তিনবার হলুদ লাগানো হয়। এগুলো হিন্দুয়ানি প্রথা ও অনৈসলামিক কাজ। কোনো মুসলিম কখনো এগুলো করতে পারে না। মহান আল্লাহ আমাদের এসব কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

১৪. পালকপুত্রের তালাক দেওয়া স্ত্রীকে বিয়ে করা

পালকপুত্রের তালাক দেওয়া স্ত্রীকে বিয়ে করা জায়েজ। কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ কেউ এটাকে নাজায়েজ মনে করেন। তাদের এই নাজায়েজ মনে করাটা জাহেলি যুগের বদ রসুম।

১৫. বিধবা মহিলা বিয়ে করা

আমাদের সমাজে কেউ কেউ বিধবা মহিলা বিয়ে করাকে চরম ঘৃণিত কাজ মনে করেন। কেউ যদি বিধবা মহিলাকে বিয়ে করে, তাহলে সমাজে অনেকে তাকে কটূক্তি করে। অথচ তারা হয়তো জানে না যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাত্র একজন স্ত্রী ছাড়া বাকি সবাই বিধবা ছিলেন। এজন্য বিধবা মহিলাকে বিয়ে করা ঘৃণিত কাজ মনে করা বা বিধবা মহিলা বিয়ে করার কারণে কাউকে কটূক্তি করা গোনাহের কাজ। তাই এটা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

১৬. ফাঁদে ফেলে অল্পবয়সী মেয়ে বিয়ে করা

বিভিন্ন সময় দেখা যায় বৃদ্ধ (উদাহারণস্বরূপ ৬০ বছর বয়সের) লোক টাকা বা অন্য কোনো কিছুর ফাঁদে ফেলে অল্পবয়সী যুবতী মেয়ে বিয়ে করে বসে। ফলে ওই মেয়ে নিশ্চিত জুলুমের শিকার হয়। অথচ জুলুম ইসলামে হারাম।

১৭. সমাজের ভয়ে বিয়ে না করা

স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে নিজের বিয়ের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সমাজ কী বলবে-এই ভয়ে অনেকে বিয়ে করে না। এর ফলে জিনা-ব্যভিচারের রাস্তা উন্মুক্ত হয়। তাই সমাজ কী বলবে— এই বাজে চিন্তা না করে বিয়ে করে নেওয়া চাই।

১৮. পিরিয়ড চলাকালীন বিয়ে

অনেকের ধারণা যে, পিরিয়ড চলাকালীন বিয়ে সহিহ হয় না। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। পিরিয়ড চলাকালীণ বিয়ে করলে বিয়ে সহিহ হবে। তবে পিরিয়ড চলাকলীন সহবাস করা বৈধ নয়।

১৯. বরযাত্রী

কনের পিতার সন্তুষ্টি ছাড়া বরযাত্রী হিসাবে যাওয়া নাজায়েজ। সামাজিক রীতি ও প্রচলনের কারণে যদি কনের পিতা বরযাত্রী নিয়ে আসার দাওয়াত করে, তাহলে সেই দাওয়াতও তার পক্ষ থেকে অনুমতি হিসেবে ধরা হবে না। বরং এটা নাজায়েজই থাকবে। কারণ এক্ষেত্রে কনের অভিভাবকরা বরযাত্রী খাওয়ানোকে সামাজিক চাপ ও লজ্জার ভয়ে ‘না’ করতে পারে না। তাছাড়া ‘না’ করতে গেলে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই চাপে পড়ে তারা বরযাত্রী খাওয়ানোর সম্মতি দেয়। আর এক্ষেত্রে অনেক সময় সামর্থ্য না থাকার কারণে তারা সুদের ওপর টাকা এনে বরযাত্রী খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে, যা সম্পূর্ণ হারাম।

২০. পালাক্রমে কনের মুখ দেখানো

বিয়ে-শাদিতে বেগানা পুরুষদের পালাক্রমে কনের মুখ দেখানো হয়। অথচ এটা হারাম। তাই এটা থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

২১. সালামি

বিয়ে-শাদিতে প্রচলিত সালামি গ্রহণ করা কুসংস্কার ও হিন্দুয়ানি প্রথা। অথচ এ ব্যাপারে আমরা উদাসীন।

২২. লোক দেখানোর জন্য ওলিমা করা

লোক দেখানোর জন্য ওলিমা করা ঠিক নয়। বরং ওলিমা করবে সুন্নাহ পালনার্থে।

২৩. ইবাদাতে উদাসীনতা

বিয়ে অনুষ্ঠানের কারণে ফরজ-ওয়াজিবসহ অন্যান্য ইবাদাতের ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও অনীহা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব ধরনের ইবাদত যথাসময়ে সঠিকভাবে আদায় করতে হবে।

২৪. বেগানা মহিলারা জামাতার সামনে আসা

বিয়ে অনুষ্ঠানে বেগানা মহিলারা জামাতার সামনে আসা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এটা নাজায়েজ।

২৫. তিনবার করে ইজাব-কবুল বলা

বিভিন্ন এলাকায় বিবাহের সময় বর-কনের দ্বারা তিনবার করে ইজাব-কবুল পাঠ করানো হয়। শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং একবার বললেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবে।

২৬. দাঁড়িয়ে সবাইকে সালাম দেওয়া

কোনো কোনো এলাকায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরে মজলিসের সবাইকে দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়া বরের জন্য জরুরি মনে করা হয়। শরিয়তে এটারও কোনো ভিত্তি নেই।

২৭. পিতা-মাতার কবর জিয়ারত

বিভিন্ন এলাকায় বরযাত্রী রওয়ানা হওয়ার আগে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত (যদি পিতা-মাতা ইন্তেকাল করে থাকেন) করাকে জরুরি মনে করা হয়। শরিয়তে এটার কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটা মানুষের বানানো মনগড়া জিনিস। কবর জিয়ারত যে কোনো সময় করা যায়। বরযাত্রী রওয়ানা হওয়ার সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই।

২৮. বরকে আন্দর মহলে এনে খেল-তামাশায় মেতে ওঠা

বিভিন্ন এলাকায় বিবাহের পর কনেকে উঠিয়ে দেওয়ার আগ মুহূর্তে পাড়া-প্রতিবেশীর যুবতী মেয়েরা একত্রিত হয়। এরপর বরকে অন্দর মহলে এনে সবাই খেল-তামাশায় মেতে ওঠে। এগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। এগুলো সম্পূর্ণ হারাম।

২৯. ইফতারি পাঠানো

ঈদের সময়, রমজান মাসের শুরুতে ও অন্যান্য মৌসুমে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে চাল, আটা, ময়দা, পিঠা, ইফতারি, চিড়া, মুড়ি, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি পাঠানো হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় এ প্রচলনকে জরুরি মনে করা হয়। যদি এগুলো মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো না হয়, তাহলে মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়িতে অপমানিত হতে হয়। এজন্য অনেকের সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও ঋণ করে এসব পাঠায়। এগুলোকে ইসলাম সমর্থন করে না। এটা শরিয়তের সীমালঙ্গন ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাছাড়া এটা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অভিশাপও বটে।

৩০. কনেকে গাড়ি থেকে কোলে করে নামানো

কনেকে গাড়ি থেকে কোলে করে নামিয়ে ঘরে তোলা চরম অভদ্রতা। আর বেগানা পুরুষের মাধ্যমে কোলে করে গাড়ি থেকে নামানো হারাম। উৎস : ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিয়ে ও তালাক (লেখক : মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী)

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪