| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সাইফুল আলমের সম্পত্তি জব্দ করল সাইপ্রাস আদালত

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৬ ইং | ০২:৩৯:১৯:পূর্বাহ্ন  |  ১২৮৬ বার পঠিত
সাইফুল আলমের সম্পত্তি জব্দ করল সাইপ্রাস আদালত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশি শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন সাইপ্রাসের একটি সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। বাংলাদেশে চলমান অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতি তদন্তের অংশ হিসেবে এ আদেশ দেওয়া হয়।

সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত গত ১৯ মে পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা বাড়ি জব্দের নির্দেশ দেয়। দেশটির মানি লন্ডারিংবিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’-এর আবেদনের পর আদালত এ সিদ্ধান্ত দেয়।

বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পাঠানো নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

সাইফুল আলম এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তিনি ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব পান।

আদালতের আদেশের একদিন পর বাংলাদেশে একটি আদালত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরো সমমানের ঋণ সংক্রান্ত মামলায় সাইফুল আলমসহ তার ১০ স্বজন ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৩৪টি বাস কেনার উদ্দেশ্যে ওই ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তবে বাসগুলো কেনা হয়নি।

তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এস আলম সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, যার অনেকগুলো পরে খেলাপিতে পরিণত হয়।

তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এসব ঋণের অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বরাতে বলা হয়েছে, মামলাগুলোর মাধ্যমে ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে নিবন্ধিত ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোম্পানির কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ‘এসিএলএআরই ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’ অধিগ্রহণের মাধ্যমে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রণে নেন সাইফুল আলম।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও নিউ জার্সিভিত্তিক কোম্পানি ও ট্রাস্ট কাঠামোর মাধ্যমেও আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েলের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার সব বিনিয়োগ বৈধ বিদেশি উৎস থেকে এসেছে এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন। এ কারণে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রেও মামলা করেছেন।

উল্লেখ্য, সাইফুল আলম সাইপ্রাসের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেলেও পরবর্তীতে দেশটি কর্মসূচিটি বাতিল করে। তবে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম ছিল না বলে জানা গেছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪