| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রুটি-রুজির লড়াইয়ে যখন শত্রু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আমেরিকার ফুঁসে ওঠা নাগরিক ক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৬, ২০২৬ ইং | ১৯:৩২:৪০:অপরাহ্ন  |  ৭৩৭ বার পঠিত
রুটি-রুজির লড়াইয়ে যখন শত্রু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আমেরিকার ফুঁসে ওঠা নাগরিক ক্ষোভ

আশিস গুপ্ত: 

একসময় যে সিলিকন ভ্যালিকে আমেরিকার প্রগতি ও স্বপ্নের শেষ কথা ভাবা হতো, আজ সেখানেই বাজছে আশঙ্কার সাইরেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর উল্কাগতি এবং দেশজুড়ে দানবাকৃতির ডেটা সেন্টারের আগ্রাসন বর্তমান মার্কিন সমাজকে এক অভূতপূর্ব গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তি এখন আর কেবল অগ্রগতির হাতিয়ার নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের কাছে তা অস্তিত্বের সংকট এবং কর্পোরেট শোষণের এক নতুন মারণাস্ত্র। ফলে শান্ত টাউন হল থেকে শুরু করে হাই-টেক ল্যাব—সবখানেই আজ ফুঁসে উঠছে নাগরিক ক্ষোভ; প্রযুক্তি সংস্থার সিইও-দের ওপর নেমে আসছে চোরাগোপ্তা হামলা, ডেটা সেন্টারগুলো অবরুদ্ধ হচ্ছে বিক্ষোভে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি গোপন গোয়েন্দা নথি এক বিস্ফোরক সত্য সামনে এনেছে। মার্কিন প্রশাসন এই প্রযুক্তি-বিরোধী আন্দোলনকে আর পাঁচটা সাধারণ প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে না; একে চিহ্নিত করা হয়েছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে। আর এই নতুন শত্রু দমনে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটনের সমগ্র রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও দমন ব্যবস্থা।  

সাম্প্রতিক সময়ে বহুমুখী আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে এই আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে । প্রথমত, এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে কর্মসংস্থান হারানোর ভয় আজ আর কোনো দূরবর্তী বা কাল্পনিক রূপকথা নয়, বরং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ওপর এক নির্মম ও বাস্তব আঘাত। আমেরিকার শ্রমবাজারের বর্তমান ট্রেন্ড হলো—কোম্পানিগুলো এআই-কে কাজ দেওয়ার জন্য মানুষের সংখ্যা কমাচ্ছে এবং বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়ে নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি ও এআই প্রসেসর (জিপিইউ) কিনছে। এটাই মূলত সাধারণ চাকরিজীবী ও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের মূল কারণ।  হোয়াইট কলার চাকরি থেকে শুরু করে সৃজনশীল ক্ষেত্র—সবখানেই আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের স্থান দখল করে নিচ্ছে, যার ফলে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির মনে দানা বাঁধছে এক চরম অস্তিত্বের সংকট এবং করপোরেট ব্যবস্থার প্রতি তীব্র পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর একটি বহুল আলোচিত গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই-এর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের ফলে আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) পূর্ণকালীন চাকরি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অটোমেশনের মুখে পড়তে পারে। যার মধ্যে আমেরিকার অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা খাতের ৪৬% এবং আইনি খাতের ৪৪% কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। আমেরিকার বিখ্যাত আউটপ্লেসমেন্ট ও কর্মসংস্থান গবেষণা সংস্থা 'Challenger, Gray & Christmas' ২০২৩ সাল থেকে তাদের মাসিক ছাঁটাই রিপোর্টে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' বা AI-কে একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্ত করেছে।  সংস্থাটির সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের একটি বড় অংশই কাস্টমার সাপোর্ট, প্রশাসনিক কাজ, ডাটা এন্ট্রি এবং জুনিয়র কোডিং বা সফটওয়্যার টেস্টিং ব্যাকগ্রাউন্ডের। দ্বিতীয়ত, এই প্রযুক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা প্রকল্প, 'ডেটা সেন্টার ওয়াচ' এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার ৪২টি রাজ্যে প্রায় শতাধিক সংস্থা স্থানীয় কাউন্টি এবং শহরগুলোতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ রুখে দিতে সংগঠিত হয়েছে। এই সেন্টারগুলোর মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জলের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, যার ফলে আর্লিংটন বা ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির মতো অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্থানীয় বাজেট সভাগুলোতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে কিংবা ভার্চুয়ালি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।এর বাইরেও একটি গভীর দার্শনিক ও অস্তিত্বগত ভীতি এই আন্দোলনকে চালিত করছে, যেখানে মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে এআই অ্যালাইনমেন্ট বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা নিয়ে চিন্তিত। গোয়েন্দা রিপোর্টে 'জিঁজিয়ান' নামক এক চরমপন্থী যুক্তিবাদী গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার 'বে এরিয়া'-র মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভাবাদর্শের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আজকের এই প্রযুক্তি-বিরোধী উগ্রপন্থার শিকড় কিন্তু বেশ গভীরে প্রোথিত। "ইউনাবম্বার" নামে পরিচিত থিওডোর জে. কাচিনস্কি-র ১৯৯৫ সালের ম্যানিফেস্টো “ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটি অ্যান্ড ইটস ফিউচার” বর্তমানে প্রযুক্তি-বিরোধী কর্মীদের এক বিশাল অংশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

চরমপন্থা গবেষক মাউরো লুব্রানো তাঁর ‘স্টপ দ্য মেশিনস: দ্য রাইজ অফ অ্যান্টি-টেকনোলজি এক্সট্রিমিজম’ গ্রন্থে এই আন্দোলনের তিনটি পরস্পর সংযুক্ত ধারাকে চিহ্নিত করেছেন, যা বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। এর প্রথম ধারাটি হলো ‘বিদ্রোহী অরাজকতাবাদী’, যারা প্রযুক্তিকে মনে করে অভিজাতদের দ্বারা পরিচালিত এক দমনমূলক কারাগার-রাষ্ট্রের হাতিয়ার বা এক মহাশক্তিধর যন্ত্র। এরা সমাজ ও রাজনীতির পতন ত্বরান্বিত করতে বিদ্যুৎ গ্রিডে বোমাবাজির মতো সন্ত্রাসী ভাঙচুরের পথ বেছে নেয়। দ্বিতীয় ধারাটি হলো ‘পরিবেশ-চরমপন্থা’, যা উগ্র পরিবেশবাদের একটি রূপ এবং এরা প্রযুক্তি-শিল্প সভ্যতার অবসান ঘটাতে ‘ইকোটাজ’ বা পরিবেশগত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ওকালতি করে। তৃতীয় ধারাটি হলো ‘পরিবেশ-ফ্যাসিবাদী’, যারা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে কৃত্রিম প্রযুক্তির হস্তক্ষেপকে মেনে নিতে পারে না। সুদূর-দক্ষিণপন্থী মেসেজ বোর্ড এবং মিমেদের মাধ্যমে এরা এমন এক সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে যা কেবল প্রযুক্তি-শিল্প সভ্যতাকে ধ্বংসই করতে চায় না, বরং এক জাতিগত যুদ্ধ শুরু করতে চায়। লুব্রানোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের গোষ্ঠীগুলো শেষ পর্যন্ত একটি সমন্বিত ‘অ্যান্টি-টেকনোলজি মুভমেন্ট’ বা প্রযুক্তি-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে, যা আধুনিক সভ্যতার সাথে মানুষের এই যান্ত্রিক আত্মীকরণের ঘোর বিরোধী। অবশ্য এই আন্দোলনকে ঊনবিংশ শতকের ‘লুডাইট’ আন্দোলনের সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না, সেখানে বস্ত্র শ্রমিকদের জীবিকা সংকটের মুখে পড়ায় তাঁরা শ্রম-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ধ্বংস করেছিল। লুডাইটরা সামগ্রিকভাবে যন্ত্রের বিরোধী ছিল না, বরং তার আড়ালে থাকা পুঁজির শোষণের প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু আজকের প্রযুক্তি-বিরোধী আন্দোলন অনেক বেশি তাত্ত্বিক এবং অস্তিত্ব সংকটের সাথে যুক্ত, যা অলডাস হাক্সলি বা লুইস মামফোর্ডের মতো লেখকদের চিন্তাধারার সাথে মেলে, যেখানে বিশ্বযুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছিল যে প্রযুক্তি মানেই সবসময় প্রগতি নয়। বর্তমানের এই স্রোত আদিবাসী সর্বপ্রাণবাদ থেকে শুরু করে উগ্র রক্ত-ও-মাটির সাম্রাজ্যবাদ—উভয়কেই উজ্জীবিত করতে পারে।

আমেরিকার গোয়েন্দা রিপোর্টে এই বৈচিত্র্যময় উগ্রপন্থী তত্ত্বগুলোর উল্লেখ থাকলেও, বর্তমানে তা সাধারণ অহিংস আন্দোলনকে স্তব্ধ করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কাউন্টারটেররিজম ব্যুরোর একটি রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরে উদীয়মান এআই প্রযুক্তির ফলে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম হতে পারে যা নাগরিক অশান্তি এবং প্রযুক্তি-বিরোধী সহিংস চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে রূপ নিতে পারে। এছাড়াও, ইউনাইটেড হেলথ-এর সিইও ব্রায়ান থম্পসনের হত্যাকাণ্ডের পর ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ২০২৫ সালের জানুয়ারির একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মতে এই ধরণের হামলার পেছনে প্রযুক্তি-বিরোধী ও করপোরেট-বিরোধী মনোভাব কাজ করছে, বিশেষ করে যখন নির্বাহীদের সাধারণ মানুষের ওপর শোষণকারী হিসেবে দেখা হয়।মার্কিন প্রশাসন এই নতুন আন্দোলনকে কোনো সাধারণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে না, বরং একে একটি অত্যন্ত গুরুতর অভ্যন্তরীণ চরমপন্থা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। এই আন্দোলনকে দমন করতে মার্কিন প্রশাসন তাদের সমগ্র অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং অপরাধী সাব্যস্তকরণের কাঠামোকে পুনর্গঠিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রেসিডেন্সিয়াল মেমো ৭’-এর নির্দেশিকায় বিচার বিভাগকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যেন তারা “আমেরিকান-বিরোধী”, “খ্রিস্টান-বিরোধী” এবং “পুঁজিবাদ-বিরোধী” বিশ্বাস পোষণকারী যে কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন কৌশল অনুযায়ী বামপন্থী চরমপন্থীদের দেশের অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নতুন একটি বর্গ তৈরি করেছে, যাকে তারা রিপোর্টে “প্রযুক্তি-বিরোধী সহিংস চরমপন্থা” বা “অ্যান্টি-টেক ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম” বলে অভিহিত করছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন মূলত প্রযুক্তি ও কর্পোরেট ব্যবস্থার যেকোনো সমালোচনাকে জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী হিসেবে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করছে।প্রশাসনের এই অতি-নজরদারির ফলে আমেরিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হচ্ছে। নর্দার্ন ভার্জিনিয়া আঞ্চলিক ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের একটি রিপোর্টে ডেটা সেন্টারে হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সন্দেহজনক কার্যকলাপের তালিকায় তারা এমন কিছু বিষয় যুক্ত করেছে যা যেকোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীর মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় নাগরিক অধিকার সংস্থা এনএএসিপি লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের সিনিয়র কাউন্সেল স্পেন্সর রেনল্ডস এই প্রবণতার সমালোচনা করে বলেছেন যে, প্রতিবাদ বা কেবল জোরালো মতামত থাকাকে সহিংসতার পূর্বলক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করার দীর্ঘ ঐতিহ্য এই সংস্থাগুলোর রয়েছে। এই অবিশ্বস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয় বা উইসকনসিনের মতো রাজ্যে ডেটা সেন্টারের সমালোচনা করায় টাউন হল থেকে বক্তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’-এর মতো বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইন্টারনেট স্ক্র্যাপ করে প্রযুক্তি-বিরোধীদের অনলাইন আলোচনা ট্র্যাক করছে এবং ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর মতো অহিংস সংগঠনের ডেটা সেন্টার বিষয়ক তথ্যচিত্রকেও সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছে।

আমেরিকার এই অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র তার রাজনৈতিক ও বস্তুগত পুঁজি রক্ষা করতে কতটা মরিয়া, কারণ এই প্রশাসন এআই এবং ডেটা সেন্টারের প্রসারে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। গবেষক মাউরো লুব্রানো নিজেও এই অতি-সুরক্ষাকরণের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে, প্রযুক্তি-বিরোধী সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তবে এটিকে এআই-কে সুরক্ষাকরণ করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যার ফলে বর্তমান গতিপথের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। লুব্রানো মনে করেন, মানুষের এই মোহভঙ্গের আসল কারণ প্রযুক্তির নিজের মধ্যে নয়, বরং লুকিয়ে রয়েছে বাজার পুঁজিবাদের গভীরে।

প্রযুক্তি সংস্কৃতিরই অংশ, সমাজ-বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। কিন্তু মার্কিন  প্রশাসনের অতিরিক্ত নজরদারি, গবেষণার অপব্যবহার এবং অহিংস প্রতিবাদকে চরমপন্থা বানানোর দমনমূলক নীতি এই লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে। এটি এখন আমেরিকার নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এক বৃহত্তর লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪