| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্বকাপ শুরুর ৩ দিন আগে আমেরিকায় সহিংসতা, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ২২:৪৫:১৬:অপরাহ্ন  |  ৪৮৫৬১৮ বার পঠিত
বিশ্বকাপ শুরুর ৩ দিন আগে আমেরিকায় সহিংসতা, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা ওঠার মাত্র তিন দিন আগে দুটি আয়োজক শহরে পৃথক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কে চলন্ত স্টেশন ও ক্যানসাস সিটিতে হওয়া এই দুই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত রোববার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগ কেন্দ্র পেন স্টেশনে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এই হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত হামলাকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

নিউইয়র্ক নগরীর কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন গৃহহীন মানুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সহিংসতার একটি রূপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসীদের সব জায়গায় নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে এবং আমরা তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

এই হামলার স্থানটির ঠিক ওপরেই ম্যানহাটনের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন অবস্থিত, যেখানে সোমবার ও বুধবার এনবিএ (NBA) ফাইনালসের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

এছাড়া নিউইয়র্কের পাশেই নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী শনিবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবারের বাস্কেটবল ম্যাচটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পর পর দুটি বড় ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক জুড়ে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে একটি পাবলিক ওয়াচ পার্টিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ২৬ জনকে গ্রেফতার এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার পর সোমবারের আউটডোর ওয়াচ পার্টি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মিসৌরির ক্যানসাস সিটিতে শনিবার অন্য একটি সহিংস ঘটনায় একটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের মাত্র ৪ মাইল (প্রায় ৬.৫ কিলোমিটার) দূরে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যাতে নয়জন আহত হন। 

ক্যানসাস সিটি পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের আঘাত গুরুতর নয় এবং তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ইংল্যান্ড দল অবশ্য এখনো ক্যানসাসে পৌঁছায়নি; বুধবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে কোস্টারিকার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের।

৪৮টি দলের এবং ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল বিশ্বকাপ আয়োজন স্বাগতিক দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে আমেরিকার জন্য একটি নজিরবিহীন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে মোট ৭৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে একাধিক ফেডারেল সংস্থা, রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান। স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোন পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে দলগুলোকে এসকর্ট করা এবং ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দায়িত্ব পালন করছে তারা। 

নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সব সরঞ্জাম যার মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন লক্ষ্য করে নেট ছুঁড়তে পারা ‘হান্টার ড্রোন’, ব্যাগ তল্লাশিকারী ‘রোবট ডগ’, বিশাল এক্স-রে ট্রাক এবং হাজার হাজার এআই-চালিত ক্যামেরা।

এফবিআই-এর স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ অমিত কাচিয়া-প্যাটেল জানিয়েছেন, ম্যাচের দিনগুলোতে প্রতিটি আয়োজক শহরে বিশেষ যৌথ অপারেশন সেন্টার চালু করবে এফবিআই। এই টুর্নামেন্টকে আমেরিকার ‘সুপার বোল’-এর সমমানের সর্বোচ্চ ফেডারেল নিরাপত্তা মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ আমেরিকায় ভ্রমণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যেখানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একটি ম্যাচ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, আমেরিকায় বন্দুক সহিংসতা একটি নিয়মিত বিষয়, যেখানে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই চার শতাধিক গোলাগুলির (Mass Shooting) ঘটনা ঘটেছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের নিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪