বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের বারুইপাড়া এলাকায় কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখা।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে জেলা শহরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
জানা গেছে, গত ১০ জুন বাগেরহাটের বারুইপাড়া ইউনিয়নে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বারুইপাড়া বাজারে জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা।
এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বাগেরহাটের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ড একটি নিন্দনীয় ঘটনা। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, কেন্দ্রীয় নেতা মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মল্লিক মিজানুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মোর্শেদুল আলম এবং সদর উপজেলা আমির মাওলানা ফেরদৌস আলীসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বারুইপাড়ায় সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা তাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু