| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যেসব বড় প্রশ্নের সমাধান জরুরি

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ২১:০১:২২:অপরাহ্ন  |  ১৬৭৪ বার পঠিত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যেসব বড় প্রশ্নের সমাধান জরুরি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে। এর ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুর সমাধান করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, তেহরান অন্তত ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কারণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে যেমন ব্যবহার করা যায়, তেমনি পারমাণবিক বোমার মূল উপাদান হিসেবেও কাজে লাগে।

সাধারণত আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগ পর্যন্ত ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছিল, যা অস্ত্র-মানের প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার মাত্রা থেকে খুব বেশি দূরে নয়।

ইসরায়েলের দাবি ছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ বলেছে, ইরানে সমন্বিত কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তারা পায়নি।

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের অধিকার ইরানের রয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তবে কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরি না করেও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা একমাত্র দেশ ইরান। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এ বিষয়টিকে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কতটুকু কর্মসূচি এখনো টিকে আছে?

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উৎপাদিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে অন্তত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হামলা শুরুর আগে আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। আইএইএর মানদণ্ড অনুযায়ী, আরও সমৃদ্ধ করা হলে এই পরিমাণ উপাদান দিয়ে ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এর মধ্যে ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সে টিকে থাকতে পারে। আরও কিছু উপাদান নাতাঞ্জ স্থাপনাতেও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ইরান এখনো আইএইএ পরিদর্শকদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে ফিরে যেতে দেয়নি। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেয়নি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।

আলোচনায় যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন যেকোনো চুক্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান প্রয়োজন হবে।

উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে?

ট্রাম্প প্রশাসন চায় এসব উপাদান দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক অথবা ধ্বংস করা হোক। কিন্তু ইরান এর কোনোটিতেই রাজি নয়। সমঝোতার একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে ইউরেনিয়ামকে ‘ডাউনব্লেন্ড’ বা নিম্নমাত্রায় রূপান্তর করা। সেক্ষেত্রে কত শতাংশ পর্যন্ত তা নামানো হবে এবং কতটুকু মজুত ইরানে রাখা যাবে, তা নিয়ে দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।

রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে তেহরান।ইরানে আদৌ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে কি না?

ওয়াশিংটন একাধিকবার ইরানে শূন্য-সমৃদ্ধকরণের দাবি তুলেছে। তবে তেহরান বলছে, তারা নিজেদের এই অধিকার ছাড়বে না।

যদি সীমিতভাবে সমৃদ্ধকরণ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে কত শতাংশ পর্যন্ত তা করা যাবে, কতটুকু মজুত রাখা যাবে এবং কোন স্থাপনায় কোন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, ১০ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সম্পূর্ণ হিসাব নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব হবে?

বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা যন্ত্রপাতি ও উপাদানের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কীভাবে করা হবে, তা বড় একটি প্রশ্ন। এছাড়া অজ্ঞাত স্থানে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যাও অজানা। ফলে সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তদারকি করবে কে?

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় আইএইএকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণাবহির্ভূত স্থাপনাতেও আকস্মিক পরিদর্শনের সুযোগ ছিল সংস্থাটির। কিন্তু চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো চুক্তি কার্যকর করতে হলে আইএইএকে আবারও একই ধরনের শক্তিশালী তদারকি ক্ষমতা দিতে হবে। রয়টার্স


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪