| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শাহরাস্তিতে ১২ বছর পর সড়ক সংস্কার, তাতেও অনিয়মের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৬, ২০২৬ ইং | ১৫:১০:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৭৮৯ বার পঠিত
শাহরাস্তিতে ১২ বছর পর সড়ক সংস্কার, তাতেও অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দীর্ঘ ১২ বছর পর পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া গ্রামীণ পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, আগের তুলনায় সড়ক সরু করা এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহরাস্তি রেলস্টেশন সংলগ্ন এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের পর সড়কটির কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে রেলস্টেশন রোড সংলগ্ন পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “এই সড়কটি আগে ১০ ফুট প্রশস্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে সাড়ে ৮ ফুট প্রস্থে। এছাড়া নির্মাণকাজে পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্পেটিংয়ের জন্য বড় আকারের পাথর এনে রাখা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ফলে কেউ আর প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।”

আলমগীরসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তারা সড়কটি সঠিকভাবে নির্মাণের দাবি জানাতে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দাপ্তরিক নিয়মের কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেন।

এই সড়কে নিয়মিত ইজিবাইক চালান মো. জুবায়ের। তিনি বলেন, “সংস্কারের নামে সড়কটি অনেক সরু করা হচ্ছে। এতে দুটি অটোরিকশা পাশাপাশি চলাচল করতে পারবে না। একটি গাড়ি এলে অন্যটি আটকে থাকবে। এতে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি বাড়বে।”

সড়কটির সংস্কার কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির পূর্বের প্রস্থ ছিল ২ দশমিক ৬৬ মিটার। এটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জনদুর্ভোগের কারণে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। ঠিকাদার ওমর ফারুক কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪ লাখ টাকা।”

ঠিকাদার ওমর ফারুক কাজের অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “কার্যাদেশ ও সিডিউলে যেভাবে কাজের কথা উল্লেখ আছে, আমি সেভাবেই কাজ করছি। এর বাইরে কিছু বলার নেই।”

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ করেন। এ সময় তিনি ঠিকাদার ওমর ফারুককে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। তবে কাজের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পরে তিনি বলেন, “সড়ক নির্মাণের শুরুতে স্থানীয়রা এসব অভিযোগ তুললে আমি ২৫ দিন কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগকে অসত্য দাবি করে তিনি উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া জানান। পরবর্তীতে অভিযোগকারীদের রেকর্ডকৃত ভিডিও বক্তব্য দেখানো হলে তিনি পরিচয় গোপন রাখা ঠিকাদারকে বক্তব্যদানকারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, “সড়কটি সরু হচ্ছে—এ অভিযোগ সঠিক নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের উপরের অংশ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা প্রশস্ত হয়ে গেছে।”


রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪