| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চিরকুটের প্যাড আর হাতের লেখাতেই ধরা পড়ল খুনি

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৮, ২০২৬ ইং | ১৭:২০:১৭:অপরাহ্ন  |  ১১৫৩ বার পঠিত
চিরকুটের প্যাড আর হাতের লেখাতেই ধরা পড়ল খুনি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: পাঁচ বছরের শিশু জায়ান মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়েছিল মুক্তিপণের একটি চিরকুট। সেখানে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। প্রথম দেখায় সেটিকে অপহরণ মনে হলেও তদন্তকারীদের চোখে চিরকুটটির ভেতরেই লুকিয়ে ছিল রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি। আর শেষ পর্যন্ত সেই চিরকুটের প্যাড, খসড়া লেখা এবং হাতের লেখার মিলই পুলিশের সামনে খুলে দেয় হত্যাকাণ্ডের পুরো জট।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় শিশু জায়ান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ মুক্তিপণের চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে। কারণ অপহরণের দাবিতে টাকা চাওয়া হলেও সেখানে যোগাযোগের কোনো নম্বর ছিল না, ছিল না টাকা আদায়ের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে একটি বাড়ির ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় ঠিক একই ধরনের একটি প্যাড, যেটির কাগজে মুক্তিপণের চিরকুট লেখা হয়েছিল।

শুধু প্যাডই নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি আলামত উদ্ধার হয় ওই ঘর থেকে। তদন্তকারীরা দেখতে পান, চিরকুট লেখার আগে কয়েকবার খসড়া বা ড্রাফট তৈরি করেছিল। সেই ড্রাফটের কিছু অংশও পাওয়া যায় ঘরটির ভেতরে।

পুলিশ সুপার বলেন, যে প্যাডে চিরকুট লেখা হয়েছিল, একই ধরনের প্যাড আমরা একটি ঘরে পাই। খুঁজতে খুঁজতে ওই চিরকুট লেখার খসড়ার অংশও উদ্ধার হয়। তখন আমরা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাই, এই বাড়ি থেকেই চিরকুটটি লেখা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে ওই পরিবারের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এরপর ওই বাড়ির সদস্যদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে আলাদাভাবে কিছু লেখা লিখতে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চিরকুটের লেখার সঙ্গে কারও হাতের লেখা মেলে কি না তা যাচাই করা।

তদন্তের এক পর্যায়ে ওই বাড়ির মেয়ে সাদিয়া আক্তার নেহার লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী প্রথমে অন্য একজনকে জড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন। গভীর রাতে তিনি স্বীকার করেন, মুক্তিপণের চিরকুট তিনিই লিখেছিলেন।

পুলিশ জানান, ওই স্বীকারোক্তির পরই তদন্ত নতুন মোড় নেয়। এরপর অভিযুক্ত তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় শিশু জায়ানের মরদেহ।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরও জানান, খুব ছোট ছোট ক্লু ধরে আমরা এগিয়েছি। চিরকুটের কাগজ, খসড়া লেখা আর হাতের লেখার মিল থেকেই আমরা মূল সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছে যাই। এরপর পুরো ঘটনাটি উদঘাটন করা সম্ভব হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এতে ওই তরুণী সাদিয়া আক্তার নেহা ও তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়েছে। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪