কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার উন্নয়নকাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা। প্রায় ৩৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
আগামী এক মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পৌরবাসী।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশ আংশিক অবরোধ করে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান থাকলেও অধিকাংশ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ।
কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এতদিন নিবিড় তদারকি সম্ভব হয়নি। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে এবং দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি।
‘কুমারখালী সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পৌরবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল এবং কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীরসহ অন্যান্যরা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন