রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সরকার মৌলিক সংস্কার ও পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো স্বাধীন করা হয়নি, ফলে আগের মতোই কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং রাষ্ট্র সঠিক পথে পরিচালিত হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে জনমত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং একটি অংশের সিদ্ধান্তেই তা নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি দল প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি—কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে গণভোটের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য থাকলেও বাস্তবে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, তাদের দল বারবার সংসদে ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা কোনো দল বা জোটের স্বার্থে নয় বরং জনগণের দাবি বাস্তবায়নের অংশ।
ডা. শফিকুর রহমান সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশই নৈতিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুটি বড় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পেলেও জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণ হয়নি। তার মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার কারণে আজও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং মানুষের জীবনে নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা বিদ্যমান।
অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম