| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুর সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০২, ২০২৬ ইং | ০৮:৫৬:০৮:পূর্বাহ্ন  |  ২৯০ বার পঠিত
শেরপুর সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. হাসানুজ্জামান প্রধান বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মো. হাসানুজ্জামান প্রধান ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর শেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে অসন্তোষের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শহর সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প ও অনুদানের অর্থ ব্যয়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান বিতরণে ভুয়া আবেদন দেখিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে শেরপুরে একটি আধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বরাদ্দের আওতায় ২০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইউপিএস, প্রজেক্টর, সার্ভার, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের পণ্য কম দামে ক্রয় করে অধিক মূল্যের বিল-ভাউচার দেখানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য ৮৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে অনেক কম মূল্যে কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে। একইভাবে ল্যাপটপ, টেবিল, প্রজেক্টর, ইউপিএস ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও বরাদ্দ ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শহর সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে গঠিত "সমন্বয় পরিষদ"-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই এককভাবে ক্রয় ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্রয় কমিটি এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সমন্বয় পরিষদের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করে কম্পিউটার ও মেরামত খাতে ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সীমিত পরিসরে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা কার্ড প্রদানেও অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ টি এম আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো বিভাগীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত এবং দুদকের অনুসন্ধানও হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপ-পরিচালক মো. আলী হায়দার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেরপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান প্রধানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সরকারি কোনো সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪