এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: কলম্বিয়ার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে স্যুটকেসের ভেতর দেশটির জনপ্রিয় মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার নাতালিয়া ভিয়ালবারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মিরর ইউএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী বোগোটার উত্তরের অভিজাত এলাকা এল চিকোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে গত ৩ জুন থেকে অবস্থান করছিলেন ৩৬ বছর বয়সী নাতালিয়া। তার ২১ জুন অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়ার কথা ছিল। তবে পরদিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কক্ষে প্রবেশ করে একটি স্যুটকেসের ভেতর তার মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে ৪৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউড অ্যাশলি ফস্টার স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৬ জুন কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, গুরুতর নারীহত্যা এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সংগৃহীত প্রমাণে দেখা গেছে, নাতালিয়া একা থাকাকালীন ম্যাথিউড তার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপন করতে ঘটনাস্থল বিকৃত করারও চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত।
সন্দেহভাজনের খোঁজে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে অভিযান চালায়। বোগোটার মেয়র কার্লোস এফ. গালান জানান, তিন দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ২৬ জুন ইকুয়েডরের কুইটো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ম্যাথিউডকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাথিউড দাবি করেন, নাতালিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, ওটা আমি ছিলাম না। আমি ইংল্যান্ডের খেলা দেখছিলাম। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তিনি ১৭ জুন অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ ম্যাচের কথা উল্লেখ করেন।
ম্যাথিউডের দাবি, ম্যাচ শেষে তিনি একটি শপিং সেন্টারে যান, সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে একটি আইসক্রিম কেনেন। এরপর আবার খেলাধুলা করতে ফিরে যান।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের অতীত অপরাধের তথ্যও সামনে এসেছে। জানা গেছে, ২০২৩ সালে ধাওয়া করার একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি দুই বছরের বেশি সময় কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব