| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে : শরীফ ভূঁইয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৭, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৫:৫৩:অপরাহ্ন  |  ৪০৯ বার পঠিত
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে : শরীফ ভূঁইয়া

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তাই এই সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানিকালে তিনি এ বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। সে সময় আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ওই আবেদন করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়েছে, যার পরিণতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালতের মতে, এ দুটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তথা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না করে রায়ে উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণসংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

এ ছাড়া ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ ছিল, ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য করা হয়েছিল এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্য আদালতকে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান ছিল।

রায়ের সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আইনমন্ত্রী) এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারীপক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরামসহ বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের বেঞ্চ সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল দেন। পরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরামসহ কয়েকটি পক্ষ মামলায় ইন্টারভেনর হিসেবে যুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় আরও একাধিক সংশোধনী আনা হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪