| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কফিনবন্দী হয়ে মালয়েশিয়া থেকে ফিরলো পরিবারের একমাত্র সন্তান

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৭, ২০২৬ ইং | ১৪:২১:১৩:অপরাহ্ন  |  ২৯১ বার পঠিত
কফিনবন্দী হয়ে মালয়েশিয়া থেকে ফিরলো পরিবারের একমাত্র সন্তান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:  পরিবারের হাল ধরতে ঋণ  করে ছেলে জাকির কে মালয়েশিয়া পাঠান বাবা মোজাম্মেল।ছেলের স্বপ্ন ছিল বাবার ঋণ শোধ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন।  কৈশোর জীবন থেকে সংসারের অভাব অনটন দেখে তার স্বপ্ন জেগে ছিল একটি সুন্দর সচ্ছল সংসার গড়ার। কিন্তু তিন বছর পর জীবিত নয়, তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। 

একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ বাড়িতে পৌছলে  বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা।দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. জাকির হোসেন (২৫) জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ধার দেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। আশা ছিল কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। বাবার ঋণ শোধ করবেন এবং সংসারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন মালয়েশিয়ায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত রাতে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। 

মঙ্গলবার  (৭ জুলাই)  ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উঠানের মাঝখানে একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম ও বোন শোকে নির্বাক। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে যায়।

কম বেতনের চাকরির কারণে বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণ এখনো শোধ করতে পারেনি বাবা মোজাম্মেল।  একদিকে  সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে দিশেহারা তার পরিবার।

যে ছেলেকে ঘিরে বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহটুকুই তাদের শেষ সম্বল। যে ছেলে একদিন সংসারের হাল ধরবে বলে বিদেশে গিয়েছিল,।সে-ই আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এসেছে নিজের চিরচেনা গ্রামে ।

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪