| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অপারেশন থিয়েটারে ঝুলছে তালা, চরম দুর্ভোগে মেহেরপুরের রোগীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৪, ২০২৬ ইং | ১৭:১৯:২৩:অপরাহ্ন  |  ৮৭০ বার পঠিত
অপারেশন থিয়েটারে ঝুলছে তালা, চরম দুর্ভোগে মেহেরপুরের রোগীরা

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর জেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে অ্যানেসথেসিয়া (অজ্ঞানকারী) চিকিৎসকের সংকটে গত দেড় মাস ধরে সব ধরনের বড় অপারেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ফলে চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার দরিদ্র রোগী এবং তাদের স্বজনরা। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী হাসান বদলি হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের মূল অপারেশন থিয়েটারটিতে (ওটি) অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সিজারিয়ান, হার্নিয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস কিংবা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের বড় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালটিতে এখন শুধুমাত্র ড্রেসিং ও লোকাল অ্যানেসথেসিয়ায় করা সম্ভব এমন কিছু ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।

অপারেশন থিয়েটারের রেজিস্টার অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি অপারেশন হতো। সেই হিসাবে গত দেড় মাসে পাঁচ শতাধিক রোগী এখানে সরকারি খরচে অপারেশন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এদের একটি বড় অংশই বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, আর বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মেহেরপুর শহরের বাসিন্দা হাসান মন্ডল তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি হার্নিয়ার অপারেশনের জন্য এই হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এখন বাইরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এই অপারেশন করাতে তাঁর প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে, যা সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা সম্ভব ছিল। তাঁর মতো আরও অনেক দরিদ্র পরিবার বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ থাকার সুযোগে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ মিলন শর্মা জানান, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক বদলি হওয়ার পর থেকেই বড় অপারেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন কোনো চিকিৎসক যোগদান করলেই আবার ওটি সচল করা সম্ভব হবে।

রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. ফজলুর রহমান বলেন, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় সার্জারির সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীদের আমরা নিরুপায় হয়ে জেলার বাইরে রেফার করছি। চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের এই ভোগান্তি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সাজ্জাৎ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪