| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সেতুর ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে টোল দেবে না কানাডা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৭, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৯:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৪৩৬ বার পঠিত
সেতুর ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে টোল দেবে না কানাডা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অন্টারিওর উইন্ডসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটকে সংযুক্তকারী নতুন গর্ডি হাও সেতুর টোল আয়ের অর্থ শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করা হবে না। সেতু নির্মাণে কানাডার করা পুরো বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পরই টোল আয়ের ভাগাভাগি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও। একই সময়ে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আগামী ২৭ জুলাই উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত গর্ডি হাও সেতু চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অনেক ভালো একটি চুক্তি’ নিশ্চিত করেছেন তিনি। এরপর কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এই সেতু থেকে কোনো আয় পেত না, এখন দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাবে।

এ নিয়ে কানাডার বিরোধী রাজনীতিকরা প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, মিশিগানের সঙ্গে করা মূল চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের চুক্তি অনুযায়ী সেতুর নির্মাণ ব্যয় পুরোপুরি বহন করেছে কানাডা। তাই বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত টোল থেকে পাওয়া পুরো আয়ের ওপর কানাডার অধিকার রয়েছে।

কার্নি বলেন, ‘সব ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত টোলের আয় ভাগাভাগি হবে না।’

তিনি জানান, সেতুর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তুষার পরিষ্কারের খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রথম ১৫ বছর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নিট আয় ভাগাভাগি করবে।

কার্নি আরও বলেন, এসব খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রথম কয়েক বছরে নিট আয় খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে আয় ভাগাভাগির পর্যায়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশের অর্থও আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করা হবে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে একটি সমঝোতা হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, টোল থেকে পাওয়া লাভের ৫০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমান টোলের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব এলে তা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের।

এদিকে, কানাডার উত্তর অন্টারিওতে চলমান দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মিশিগানের রিপাবলিকান নেতারা প্রধানমন্ত্রী কার্নির সমালোচনা করেছেন।

মিশিগানের প্রতিনিধি জ্যাক বার্গম্যান, জন জেমস, লিসা ম্যাকক্লেইন এবং জন মূলেনার অভিযোগ করেন, বন ব্যবস্থাপনা, আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো এবং পরিকল্পিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। তারা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার বিরুদ্ধেও যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।

দাবানল নিয়ে সমালোচনার জবাবে কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন বড় কারণ।

কার্নি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দরকার। এই দায়িত্ব সবার—সত্যিই সবার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে।’

কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক অধ্যাপক ফেন হ্যাম্পসন মনে করেন, গর্ডি হাও সেতুর চুক্তি কানাডার জন্য একটি সাফল্য। তার মতে, টোল আয় ভাগাভাগির পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় ভাগ করার মতো অর্থ হয়তো খুব বেশি থাকবে না, কারণ এর আগেই কানাডা নিজের বিনিয়োগের অর্থ তুলে নিতে পারবে।

হ্যাম্পসনের মতে, ট্রাম্প যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে ছাড় দিতে বাধ্য করেছেন, সেটিও কানাডার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব হবে এবং প্রতিশোধমূলক অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি কমবে।

তবে কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ দলের সংসদ সদস্য শুভালয় মজুমদার এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি চুক্তিটিকে ‘ভয়াবহ চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কানাডার জনগণের পুরো চুক্তি দেখার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি সেতু নির্মাণের ব্যয়, আর্থিক হিসাব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কী কী সুবিধা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা উচিত।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪