হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাগলা-শাকুয়াই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
উপজেলার ১২নং স্বদেশী ও ৭নং শাকুয়াই ইউনিয়নের শাকুয়াই মোড় থেকে নাগলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পিচঢালা সড়কটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি দিয়ে স্বদেশী ও শাকুয়াই ইউনিয়ন ছাড়াও বিলডোরা, গোয়াতলা এবং ধোবাউড়া উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, চাকরিজীবীসহ রোগীবাহী যানবাহনও চলাচল করে এ পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় গভীরতা বোঝা যায় না। এতে অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আহত হচ্ছেন যাত্রী, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদের ছেলে বাবুল মিয়া বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত এই সড়ক দিয়েই তিনি নিজের জমিতে উৎপাদিত আখ বাজারে নিয়ে যান। কিন্তু বর্তমানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের কারণে তাঁর অটোভ্যান ও আখ বহনকারী গাড়ি প্রায়ই আটকে যায়, এমনকি অনেক সময় উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তিনি বলেন, শুধু নাগলা-শাকুয়াই সড়ক নয়, বাট্টা বাজার সংলগ্ন গ্রামীণ টাওয়ার থেকে বালিজুরী গ্রাম হয়ে ডেহুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়কও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। বৃষ্টির সময় এ পথ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৫০০ পরিবারের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অটোরিকশাচালক হাকিম ফকির বলেন, সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই যাত্রী ও মালামাল বোঝাই গাড়ি আটকে যায়। প্রতিদিন গাড়ি মেরামতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে চালকদের আয় কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, নাগলা মোড় থেকে শাকুয়াই বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দুই পাশের পুকুরে ধসে পড়ছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার ভারী বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আলী খান বলেন, এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাট্টা বাজার সংলগ্ন গ্রামীণ টাওয়ার থেকে বালিজুরী হয়ে ডেহুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পিচঢালাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিমুলতলী মোড় থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে জৈনাটী এবং শিমুলতলী মোড় থেকে পিকা স্কুল হয়ে বাস্তারকান্দা সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাগলা-শাকুয়াই সড়কের সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছোটখাটো সংস্কারে সম্ভব নয়। তাই পূর্ণাঙ্গ পিচঢালাইয়ের পরিকল্পনা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাগলা মোড় থেকে শাকুয়াই পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বর্তমান অবস্থা, স্থানীয়দের অভিযোগ ও সংস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ