গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের মহানগরীর কোনাবাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল (মদ) হিসেবে বিষাক্ত মিথানল পান করার পর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের জুনিয়ার বাজার এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সজিব (২২) এবং একই উপজেলার মোস্তফা ইসলামের ছেলে রনি মিয়া (২০)।
সজিব কোনাবাড়ির বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় থেকে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। আর রনি মিয়া একই এলাকায় নানীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে আশুলিয়ার একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, গত ১৩ জুলাই রাতে বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া রমজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন যুবককে অ্যালকোহল হিসেবে একটি তরল পানীয় পান করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই তরলটি আসলে অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘মিথানল’ ছিল।
পানীয়টি পানের পরদিন সকাল থেকেই সজিব ও রনি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাদের স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের কোনাবাড়ির একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর ৪টার দিকে সজিব এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রনি মারা যান।
এ বিষয়ে নিহত রনির নানী জানান, রনি আমার সঙ্গেই থাকত। আমি ভিক্ষা করে তাকে অনেক কষ্টে লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। সে কোনো ধরনের নেশা করতো না। কীভাবে তাকে এই বিষাক্ত পানীয় পান করানো হলো, আমি সেটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, মিথানল বিষক্রিয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে জিএমপি'র কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা শাহবাগ থানা মারফতে মৃত্যুর বার্তা পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব