নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী জেলখানা মোড় এলাকায় মহাসড়কের পাশজুড়ে ছিল দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নোংরা আবর্জনার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রীসাধারণ, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশ শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি ছিল না, বরং জেলার প্রবেশমুখের সৌন্দর্যও নষ্ট করছিল।
তবে সেই দৃশ্য এখন অতীত। নরসিংদী জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মহাসড়কের পাশের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজায়ন। পরিচ্ছন্ন করা জায়গাজুড়ে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ফলে একসময় যেখানে ছিল দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ, সেখানে এখন চোখে পড়ছে সবুজের সমারোহ।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া-এর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই কার্যক্রমকে নরসিংদী শহরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ত। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে সেখানে বৃক্ষরোপণ করায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পথচারীদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মহাসড়কের পাশের সবুজায়ন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে নরসিংদী শহরের সৌন্দর্য নতুন মাত্রা পাবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অনেকেই। অনেকেই এটিকে একটি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও একই ধরনের পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সবুজ নরসিংদী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।