চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ছয়টি সংযোগ সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সার উৎপাদনের কাঁচামাল দ্রুত আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানীর নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরের ছয়টি সংযোগ সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, চট্টগ্রাম-কে নির্বাহক সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হবে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ শেষ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থাকবে।
তিন হাজার ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
অন্যদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয় ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দ্রুত সংগ্রহে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন করার প্রস্তাব দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ ও দামের দ্রুত পরিবর্তন বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সার উৎপাদনের জন্য দুই লাখ পাঁচ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড, ৯০ হাজার মেট্রিক টন রক ফসফেট, ১৫ হাজার মেট্রিক টন ব্রাইট ইয়েলো সালফার এবং ১৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড আমদানার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বিভিন্ন দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানার পরিকল্পনা করেছে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৭২ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ওমান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, স্পেন, হংকংসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজেল আমদানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ও ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী আমদানির চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।
মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন মিললে তিনটি প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি