| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩২ শ্রমিক

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩১, ২০২৬ ইং | ১০:০৩:৪৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৮১৬ বার পঠিত
পাকিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩২ শ্রমিক

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে টানা অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঙ্গে এলাকার একটি কয়লাখনিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরে কর্মরত বহু শ্রমিক আটকা পড়েন।

শুক্রবার ভোরে বেলুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা সেগুলো বাইরে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, খনি উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য জরুরি সেবার সদস্যরা এখনও খনির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

এদিকে, অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ বলেন, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের কয়লাখনিগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খনির ভেতরে গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের সংকটকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খনিশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনির মালিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, অনেক মালিক শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন না এবং নিরাপত্তাবিধিও যথাযথভাবে মেনে চলেন না। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে বাধ্য হন শ্রমিকরা।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও জীবিকার তাগিদে বেলুচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ কয়লাখনির ওপর নির্ভরশীল। কম মজুরিতে কঠিন ও বিপজ্জনক এই পেশায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হওয়া সত্ত্বেও বেলুচিস্তান এখনো দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। উচ্চ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে জীবিকার সন্ধানে অনেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিতে বাধ্য হন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪