| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নওগাঁয় ওএমএসের গম বিক্রি করে নিম্নমানের আটা সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০২, ২০২৬ ইং | ১৬:০৭:৪৬:অপরাহ্ন  |  ৩২৩৬২২ বার পঠিত
নওগাঁয় ওএমএসের গম বিক্রি করে নিম্নমানের আটা সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁ খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচির জন্য সরকারি গম পেষাইকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল-এর বিরুদ্ধে সরকারি গম বিক্রি করে নিম্নমানের আটা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

গত ১ জুলাই খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর নওগাঁ শহরের পাঁচ বাসিন্দা—শহিদুল ইসলাম সোহাগ, মো. সবুজ হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রকিব—লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ১২ জুলাই খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফিফ-আল-মাহমুদ ভুঁঞা স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আওতায় ওএমএস কর্মসূচির গম পেষাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল প্রতি মাসে প্রায় ১৪৫ টন সরকারি গম সংগ্রহ করে। অভিযোগকারীদের দাবি, উন্নতমানের সরকারি গম বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করে মিল কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের গম সংগ্রহ করে তা পেষাই করে ওএমএস ডিলারদের কাছে আটা সরবরাহ করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযোগকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৮ জুলাই সরেজমিনে মিল পরিদর্শনে দেখা যায়, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা সরকারি গম চটের বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বস্তায় মিলের নিজস্ব গমও রাখা ছিল। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি গমের তুলনায় মিলের নিজস্ব গমের মান অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের।

অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মো. সবুজ হোসেন বলেন, মিল থেকে সরবরাহ করা আটার মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ করায় তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি নিয়মে গম সংগ্রহ করে আটা উৎপাদনের পর নির্ধারিত দামে ওএমএস ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। তার দাবি, ব্যবসায়িক কাজে তারা যে আমদানিকৃত গম ব্যবহার করেন, সেটির মান ও দাম সরকারি গমের চেয়ে বেশি। তাই সরকারি গম বাজারে বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন বলেও জানান।

নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলায় ওএমএসের ১২টি ডিলার পয়েন্টের মধ্যে বর্তমানে একটি বন্ধ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দুটি মিল গম পেষাইয়ের দায়িত্ব পালন করছে। গুদাম থেকে চালানের মাধ্যমে গম সরবরাহ করা হলেও আটার মান তদারকির দায়িত্ব তার দপ্তরের নয়। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনেও সাড়া মেলেনি।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, অভিযোগ তদন্তের নির্দেশসংবলিত কোনো চিঠি এখনও তার দপ্তরে পৌঁছেনি। চিঠি পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪