স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই জাদুঘরে হেফজত নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস। ইসলামের স্পষ্ট বিধানে যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় যত বড়ই হোক, শরিয়তের বিধান তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ নেই।
হেফাজতের শীর্ষ নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে আলেম সমাজ অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও নির্যাতন ভোগ করেছেন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান ত্যাগকে স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।
বিবৃতিতে ভাস্কর্য সংস্কৃতি বন্ধে সরকারের কাছে দুটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়—
১. জাদুঘরে আন্দোলনের লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিল ও বিপ্লবী নথি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা।
২. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
হেফাজত নেতারা অনতিবিলম্বে এসব ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে গড়িমসি করা হলে আলেম সমাজ নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব