রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগে ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি সভার রেজুলেশনের আলোচনার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা : দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখে না, আমার কানটা রয়েছে কিনা।
তিনি বলেন, ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। একটি সভার রেজুলেশনের আলোচনার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করা হয়েছে। অথচ পুরো প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আই ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড। গতকাল রাতে শুনলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। একটি মিটিংয়ের রেজুলেশনের আলোচনার জায়গাটুকু কেটে কোনো গুপ্ত এক লোক মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট অংশ দেখিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেজুলেশনের নিচের অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে বিষয়টি মন্ত্রী দেখবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু ওই অংশটি বাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরে সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রেজুলেশন তৈরি হয়ে মন্ত্রীর কাছে আসে। কিন্তু কোনো সভার রেজুলেশনে আলোচনা হয়েছে মানেই সেটি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বা দলীয় সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না।
তিনি বলেন, সেখান থেকে রেজুলেশন হয়ে আমার কাছে আসবে। সেই রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটা কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভাবে না। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনেছে, চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, একবারও কানে হাত দিয়ে দেখে না আমার কানটা রয়েছে কিনা।
এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যেই ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নিজ উদ্যোগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এসে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করে। তবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘তারা ১২তম থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে পারছে না, তাদের বয়স পার হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় আমার গাড়ির নিচে এসে মাথা দিয়ে দেয়, তাদের বয়স নেই।’
তিনি জানান, ১৮তম নিবন্ধনে প্রায় ১ লাখ শিক্ষককে এনটিআরসিএর লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি। এদের অনেকেরও বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে দেশে ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে আছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে নানা ধরনের অসংগতি ও জটিলতার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে এমন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে, যা তার নিজ এলাকার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, নোয়াখালীর একজন শিক্ষককে কুষ্টিয়ায়, রংপুরের একজনকে খাগড়াছড়িতে এবং খাগড়াছড়ির একজনকে লালমনিরহাটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের পর স্থানান্তর ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করাও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের শূন্য পদ পূরণে ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ৯ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। তারপরে ৭৭ হাজার থেকে ৯ হাজার চলে গেলে এদের মধ্যে আবার আমাকে রেকর্ড বের করতে হবে, করে তারপরে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে।’
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন শিক্ষকের সার্টিফিকেট পাবেন, তখন তাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এখানে কোনো দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম