রিপোর্টার্স ডেস্ক: করোনাকালীন সময়ে পড়াশোনা ছেড়ে চরম হতাশার মধ্যে থাকা এক তরুণ আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। একসময় ঋণের চাপ, বাবার অসুস্থতা এবং পৈতৃক জমি হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা থাকলেও, কেবল কৃষির ওপর ভর করে তিনি নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন। ইন্টারনেট ও ভিডিও মাধ্যমে আধুনিক কৃষি বিষয়ক তথ্য দেখে তিনি এই পেশায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে মাত্র ষাট শতাংশ জমিতে শুরু করা চাষাবাদ বর্তমানে দুই শ পঞ্চাশ শতাংশ জমিতে সম্প্রসারিত হয়েছে।২০২২ সালে প্রথম আধুনিক উপায়ে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হন এই তরুণ উদ্যোক্তা। বিদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা বাদ দিয়ে শুরুতে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও উন্নত বীজ সংগ্রহ করে তিনি কাজে নেমে পড়েন।
প্রথমদিকে তিনি শসা এবং করলা চাষ করেন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে তা থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর লাভবান হন। এই প্রাথমিক সাফল্যই তাকে কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তিনি প্রমাণ করেন যে কৃষিকাজ করেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।বর্তমানে তিনি একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ডিলার হিসেবে কাজ করছেন এবং তার অধীনে ত্রিশ জন স্থানীয় কৃষকের একটি ক্লাব গঠিত হয়েছে।
ওই এলাকার অন্যান্য প্রান্তিক কৃষকরাও এখন তার পরামর্শ অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। কৃষির আয় দিয়েই তিনি বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করার পাশাপাশি সংসারের সকল আর্থিক টানাপোড়েন দূর করেছেন। শূন্য হাতে শুরু করা এই তরুণের কৃষিভিত্তিক সাফল্য এখন ওই এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব