| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৫ বছরের লড়াইয়ে নিঃস্ব পরিবার: টাকার অভাবে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সাজ্জাদের চিকিৎসা অনিশ্চিত

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ১৮:৪৭:৫১:অপরাহ্ন  |  ৯৩ বার পঠিত
১৫ বছরের লড়াইয়ে নিঃস্ব পরিবার: টাকার অভাবে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সাজ্জাদের চিকিৎসা অনিশ্চিত

মেহেরপুর প্রতিনিধি: প্রতিটি রক্তের ফোঁটার সঙ্গে ফিকে হয়ে আসছে ১৬ বছরের কিশোর সাজ্জাদের স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন। জন্ম থেকেই থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করা মেহেরপুরের উজলপুর গ্রামের এই কিশোরের দিন কাটছে যন্ত্রণায়। একসময় প্রতিমাসে এক ব্যাগ রক্ত দিলে চললেও, এখন তার শরীরে দিতে হচ্ছে দুই ব্যাগ রক্ত। অসুস্থতা বাড়লে মাসে দুইবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের টানা চিকিৎসায় পরিবারটি আজ নিঃস্ব। সাজ্জাদকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট’ যার সম্ভাব্য খরচ ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু সেই বিশাল অর্থের জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তার কৃষক বাবার।

সাজ্জাদের বাবা রবিউল ইসলাম পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমা বিক্রি করে এতদিন ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে এসেছেন। দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরে চিকিৎসায় ব্যয়ের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। ফলে পৈত্রিক সম্পদের বড় অংশই হাতছাড়া হয়ে গেছে। বর্তমানে নিজের বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই; অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও সাজ্জাদকে বেশি কুরে কুরে খাচ্ছে একাকীত্ব ও বন্ধুদের অবহেলা। সাজ্জাদ আক্ষেপ করে বলে, ছোট থেকেই  নিজেকে অসুস্থই দেখে আসছি। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলতে গেলে তারা বলে তুমি তো অসুস্থ, তোমার সাথে কী খেলব! রোগ বাড়লে পেটে তীব্র ব্যথা হয়, হাঁটতে পারি না, শরীরে জ্বালাপোড়া করে। মনে হয় দুনিয়ায় আমার কেউ নেই।

এদিকে গত দুই বছর ধরে চিকিৎসকদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের বিশাল খরচ বহনে অক্ষম হয়ে রবিউল ইসলাম বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন। কিন্তু এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে আবেদন নিয়ে ঘুরেও কোনো অনুদান পাননি বলে অভিযোগ তার।

তবে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আশাদুল ইসলাম জানান, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, সঠিক নিয়ম মেনে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে আবেদন করা হলে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

১৬ বছরের সাজ্জাদের চাওয়া খুব সামান্য। সে অন্য ১০ জন সাধারণ কিশোরের মতো স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়, বাঁচতে চায় স্বাভাবিকভাবে। সাজ্জাদকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনে একটি সুস্থ জীবন দিতে সরকার, দেশ-বিদেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মানবিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪