ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পক্ষের তীব্র পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাবে রাশিয়াও তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।
যার ফলে দুই দেশেই শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধে রাশিয়ার লাগাম টানতে ইউক্রেনের ড্রোন তেল শোধানাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এরই পাল্টা জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের পেট্রোল পাম্পগুলোকে পাল্টা আঘাত হানছে। তাই প্রেট্রোল পাম্প থেকে তাড়াতাড়ি তেল ভরে নিয়ে এগিয়ে যেতে চালকদের বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি শহরের দুটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ ড্রোন হামলা চালানো হয়, এতে দুজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এমনকি গত সপ্তাহে ক্রিভি রিহ শহরের বাইরে একটি পেট্রোল পাম্পে আরেক রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছিল। গেল এপ্রিল মাস থেকে ইউক্রেনের পেট্রোল পাম্প লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। প্রধানত যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখবর্তী অঞ্চলগুলোতে এই হামলাগুলো এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে।
একই সময়ে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ফলে দেশটি জুড়ে দুই দফা তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিলো। ইউক্রেনের জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাফতো রিনোকয়ের বিশ্লেষক ওলেক্সান্দর সিরেঙ্কো বলেছেন, রাশিয়া এ পর্যন্ত ইউক্রেন জুড়ে মোট অন্তত ২৪৬টি ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়েছে।
শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ১১৪ পাম্পে রুশ হামলার ঘটনা একটি সংস্থার তথ্যে উঠে এসছে। যেখানে তার আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৬। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এক বিশেষ নির্দেশনা জারি করে ইউক্রেন পুলিশ।
জারিকৃত নির্দেশনায় জানানো হয়, বিমান হামলার সতর্কবার্তা শোনা গেলেই গাড়িচালকরা পেট্রোল স্টেশন ছেড়ে যান এবং প্রয়োজনে নিজেদের যানবাহন রেখে নিরাপদে অবস্থান করেন।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পুলিশ জানিয়েছে, আপনি আপনার গাড়ি ঠিক করতে পারবেন, কিন্তু আপনার জীবন চলে গেলে ফিরে পাবেন না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম