| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কচুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ২২:৪১:০৯:অপরাহ্ন  |  ৩৭৫৭ বার পঠিত
কচুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের বলরা গ্রামের ওবায়েদ উল্যা ভূলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দায়েরের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

ওবায়েদ উল্যা ভূলন বলরা গ্রামের মৃত জলিল নায়েবের ছেলে। ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি ১৭টি মামলার আসামি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও নতুন করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের করা মামলায় তাঁকে আসামি হতে হচ্ছে।

ভূলনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার ফল। মামলাগুলোতে চাঁদাবাজি, মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে না বলে তাঁরা দাবি করেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভূলনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বাদী ও সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে এক নেতার গাড়িচালক, কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর ছাত্রদলের একজন সদস্য রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে এসব মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের দুটি মামলায় বাদী ইতোমধ্যে আপস করলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এই সংক্রান্ত্র কাগজপত্র সংরক্ষিত।

ওবায়েদ উল্যা ভূলনের স্ত্রী জাহেদা ওবায়েদ জানান, তার স্বামীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই পর্যন্ত ৮টি মামলায় আসামী করা হয়েছে। এসব মামলাগুলো থেকে জামিন নেওয়া হলে আরেক মামলায় শোনঅ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

ধারাবাহিক এসব মামলা, নিজ দলের একটি গ্রুপের চক্রান্তের শিকার ও ভূলনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয় কার্যক্রমরে তথ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছি। আওয়ামী লীগ আমলের ১৭ মামলার পর এখন নিজ দলের নেতাদের করা ৮মামলায় আমাদের পরিবারকে বিষিয়ে তোলা হয়েছে। আমার স্বামীসহ পরিবার রক্ষায় সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

ভূলনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কচুয়ার বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন কারণে বিভাজন তৈরি হয়। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নেতা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পাশাপাশি প্রবাসী বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের একটি অংশ পৃথকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ভূলন মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় বর্তমানে নিজ দলের একটি অংশের মামলার শিকার হচ্ছেন বলে তাঁর সহকর্মীদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূলনের এক দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বলেন, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে জুনিয়র হলেও ভূলন আমাদের কাছে অভিভাবকের মতো ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়। চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি কারও কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছেন বা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে সেই টাকা আমি পরিশোধ করব।

আরেক সহকর্মী বলেন, ভূলনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলায় তিনিও আসামি। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ভূলনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বারবার গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মামলাগুলোর অভিযোগ তদন্ত করলে চাঁদাবাজি বা মারধরের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কচুয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও প্রতিহিংসার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মামলা-মোকদ্দমা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সংস্কৃতি এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও তাঁরা মনে করেন।

ভূলনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বাদী ও সাক্ষীদের মধ্যে একই ব্যক্তিদের নাম বারবার আসার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়গুলো আমি বলতে পারব না। মামলাগুলোতে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ কোনো প্রমাণ পেয়েছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাগুলো তদন্ত চলছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪