নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসলিমনগর এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বরুনদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মুসলিমনগরের তাহসিনুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মুসলিমনগর এলাকার এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রায় এক বছর আগে কোরআন হেফজ করার জন্য ওই মাদরাসায় ভর্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তির পর থেকেই রফিকুল ইসলাম ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
গত ৩১ আগস্ট রাতে ফের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার মা তাকে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসাটি ঘেরাও করেন।
এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব