সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর ভাটারা থানার মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শাহীন রাজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার তাকে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ নির্দেশ দেন। এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ। শাহীন ভাটারা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাব-ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, গত আগস্ট মাসের ২ তারিখে ভাটারা থানার বারিধারা জে-ব্লকে সিটি কর্পোরেশনের এসটিএস এ দুটি ককটেল নিক্ষেপ ও ফাকা গুলি করে। এরপর ৭ আগস্ট শাহপরান নামে তার এক কর্মীকে মুখোশ পরা অবস্থায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় শাহীন ও তার সহযোগিরা। পরে খবর পেয়ে সাইফুল ইসলাম শাহপরানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। মুখোজ পরলেও স্টাফরা তাকে চিনতে পারেন। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় শাহীনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২১ ও ২২ আগস্ট ভোরে বারিধারা বর্জ্য ফেলার স্থানে গিয়ে তার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বলা হয়, ‘আগে শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলো, তারপর কাজ কর। এর আগে কোনো কাজ চলবে না। বৃহস্পতিবার শাহীন তাকে ফোন করে মামলা করার কারণ জানতে চান। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি তো ঠিকাদার। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব আমার। বিষয়টি প্রশাসককে আমি জানিয়েছিলাম। এরপর শাহীনের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা করি। এছাড়া শাহীনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায়ও মামলা রয়েছে।
ভাটারা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ভাটারায় তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। শাহীন এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ময়লা নিয়ে মারামারি ঘটনায় শাহীনের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ