দাগনভূঞা প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২৫ বছর বয়সী ওই নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাশেদ ওরফে রাজ (১৯), লক্ষ্মীপুরের রামগতির জাকির হোসেন (২১), ফেনী সদরের আব্দুল মন্নান মুন্না (২৯), সোনাগাজীর দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯) এবং পৌর এলাকার শাহরিয়ার নোমান (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামী মো. মাসুদের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১১টার দিকে দাগনভূঞা বাজারে পৌঁছানোর পর অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে পরিচিত একজনের সহায়তায় পৌর শহরের ফাজিলের ঘাট রোডের একটি গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হয়। এ সময় তারা পাশের একটি রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন।
পরে ৮-১০ জন ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তারা মাসুদকে একটি দোকানের পেছনে নিয়ে বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এ সময় তার স্ত্রীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয় এবং ওই নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ও তার স্বামী স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানান। স্বজনরা দাগনভূঞা থানায় খবর দিলে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।
পরে আটক দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ