| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই নতুন দিল্লিতে মোদী-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ইং | ২২:২৪:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৫৩৪৬১ বার পঠিত
সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই নতুন দিল্লিতে মোদী-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি: ব্রিকছ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এসে নতুন দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারত ও চীনকে হাত মিলিয়ে ব্রিকছ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানালেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারতীয় ভূখণ্ডে এটিই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। শনিবার বৈঠকে ৭৩ বছর বয়সী চীনা নেতা বলেন যে বেইজিং নতুন দিল্লির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। 

তিনি আরও বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ কয়েক বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুৰমে মোদীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের পর এটিই জিনপিংয়ের প্রায় সাত বছর পর প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের জুনে গলওয়ানের রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল। যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্ত এলাকায় টহলদারি সংক্রান্ত একটি সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা কমে এবং রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকছ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও জিনপিং বৈঠকে বসেন। তা সত্ত্বেও সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় এখনও বহু সেনা মোতায়েন রয়েছে। ভারত বরাবরই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার মূল শর্তই হলো সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। 

সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সীমান্ত বিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে আসে। চীন এই রাজ্যটিকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করলেও ভারত সেই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছে যে অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ৬ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের উচ্চ সুবানসিরি জেলার তাকসিং অঞ্চলে চীনা সেনার নতুন কর্মকাণ্ডের খবরের পর ভাছা-দামাই সীমান্তে দুই দেশের কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তা সত্ত্বেও উভয় দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে—যেমন প্রায় পাঁচ বছর পর পুনরায় সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, সীমান্ত বাণিজ্য এবং কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করার দিকে অগ্রসর হওয়া। 

গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের সীমান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগেই বেইজিং ‘সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণ’ এবং বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিল। ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহোং বলেন যে মোদী ও জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দুই দেশের উচিত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে মতপার্থক্যগুলো দূর করা। 

এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলিও প্রাধান্য পায়। সীমান্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫,১০০ কোটি ডলারে, যেখানে ভারতের আমদানি প্রায় ১৩,১০০ কোটি ডলার এবং রপ্তানি মাত্র ১,৯০০ কোটি ডলার। এর ফলে ভারতের প্রায় ১১,২০০ কোটি ডলারের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, যা কমাতে ভারতীয় পণ্যের জন্য চীনা বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে দিল্লি।

উল্লেখ্য, এবারের সফরে চীনা প্রতিনিধিদলে শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটবিউরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সাই চি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত ছিলেন, যা চীনা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিকছ ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার  মতো মঞ্চে ভারত ও চীন যৌথভাবে কাজ করলেও সীমান্ত সমস্যা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে উভয় দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। দিল্লির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এখন দেখার বিষয়, সাম্প্রতিক এই সম্পর্কের উন্নতি সীমান্তে সুদূরপ্রসারী এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে কি না।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪