| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৯৪৫-এর কাঠামো দিয়ে ২০২৬ চলবে না: জাতিসংঘ সংস্কারের ডাক গুতেরেসের

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৭:০১:অপরাহ্ন  |  ১২৬৬৮ বার পঠিত
১৯৪৫-এর কাঠামো দিয়ে ২০২৬ চলবে না: জাতিসংঘ সংস্কারের ডাক গুতেরেসের

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি:  ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ব্রেটান উডস ব্যবস্থা সহ বিশ্ব সংস্থাসমূহের সংস্কারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। শনিবার দেওয়া তাঁর বক্তব্যে গুতেরেস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক, জনসংখ্যাগত এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ১৯৪৫ সালের মতো নয়, ফলে বৈশ্বিক প্রশাসনিক কাঠামোতেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকা জরুরি।

জাতিসংঘ প্রধান বলেন, বিশ্ব ক্রমেই একটি বহুমুখী বা বহু-মেরুভিত্তিক (Multipolar) ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এই বহুমুখী ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নীতিমালায় ভারসাম্য ও ন্যায্যতা আনতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার জন্য গ্লোবাল সাউথ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা দিতে হবে। বিশ্বের বর্তমান রূপান্তরকে প্রতিফলিত করতে এবং ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করতে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক টেকসই অগ্রগতির ওপর জোর দিয়ে গুতেরেস বলেন, সেভিয়া প্রতিশ্রুতির (Sevilla Commitment) মাধ্যমে দেশগুলো নিজস্ব সম্পদ বৃদ্ধির যে অঙ্গীকার করেছিল, তার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বড় আকারের আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন। বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলোকে আরও বড় ও সাহসী ভূমিকা নিয়ে নতুন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নমনীয় ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে ঋণের বোঝা লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির বৈষম্য নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এআই প্রযুক্তি কয়েক দশকের উন্নয়নকে মাত্র কয়েক বছরে সম্পন্ন করতে পারলেও এর নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক উন্নত দেশ ও কোম্পানির হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। এই বৈষম্য দূর না হলে আয়, সুযোগ ও সার্বভৌমত্বের ব্যবধান আরও বাড়বে। জাতিসংঘে স্থাপিত এআই সংক্রান্ত স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্যানেল ও আন্তর্জাতিক সংলাপে ব্রিকস দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি প্রযুক্তিগত বৈষম্য মেটাতে 'গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ফর এআই ক্যাপাসিটি বিল্ডিং' এবং 'গ্লোবাল ফান্ড ফর এআই'-এ পূর্ণ সমর্থনের আহ্বান জানান।

জলবায়ু বিচার প্রতিষ্ঠায় উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন গুতেরেস। তীব্র দাবদাহ, হিমবাহ গলন ও ভয়াবহ বন্যায় বিশ্ব চরম সংকটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব শিগগিরই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে চলেছে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এবং মিথেন নির্গমন হ্রাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোকে বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান, অভিযোজন অর্থায়ন তিনগুণ বৃদ্ধি করা এবং জলবায়ু ক্ষতির ক্ষতিপূরণ তহবিলে পর্যাপ্ত সম্পদ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে বিশ্ব শান্তির জন্য জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তা দেন গুতেরেস। গাজা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও সুদান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার নীতিগুলো রক্ষা করাই এখন বিশ্ব ব্যবস্থার মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। একটি বহুমুখী বিশ্বে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রেখে সবার জন্য কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস তাঁর ভাষণ শেষ করেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪