| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: মোদী-শি বৈঠকের বিবৃতিতে ভারত ও চীনের কৌশলী মতপার্থক্য

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:৪২:২১:অপরাহ্ন  |  ১৩০৮৮ বার পঠিত
সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: মোদী-শি বৈঠকের বিবৃতিতে ভারত ও চীনের কৌশলী মতপার্থক্য

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে সীমান্ত সমস্যা এবং সার্বিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রাধিকার নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ফুটে উঠেছে। 

২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, যেখানে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান এবং ৪ জন চীনা সেনা নিহত হয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল—সেই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। চীন তাদের বিবৃতিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে একই সাথে চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। 

বেইজিংয়ের মতে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই দুই ক্ষেত্রে "সমান্তরাল এবং পরস্পরকে সহায়তামূলক অগ্রগতি" অর্জন করা উচিত। 

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে সমস্যাগুলো দূর করতে হবে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সাথে সাথে সার্বিক সম্পর্ককে জোরদার করতে হবে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

ভারতের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে একটি "অপরিহার্য ভিত্তি" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো মেনে চলার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। 

তবে ভারতের বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে যে, দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ এবং সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মাথায় রেখে একটি "ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয়পক্ষের গ্রহণযোগ্য" সমাধানের বিষয়ে দুই নেতাই তাঁদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। মূল মতপার্থক্যটি প্রকাশ পেয়েছে অগ্রগতির ক্রমানুসারে। 

চীনের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত সমস্যা সমাধান না হলেও সার্বিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত আলোচনা দুটোই একসাথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। 

কিন্তু ভারতের স্পষ্ট অবস্থান হলো, সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা এবং অতীতের চুক্তিগুলো মেনে চলাই হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রধান পূর্বশর্ত। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এই নীতিতে অটল রয়েছে যে, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা না করে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়, যা চীনের বর্তমান অবস্থানের থেকে বেশ ভিন্ন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪