| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হোয়াইট হাউস এআই চুক্তি: সুপারইন্টেলিজেন্স সুরক্ষায় কী আছে আর কী নেই

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৩, ২০২৬ ইং | ২৩:১০:৫৫:অপরাহ্ন  |  ৭০১ বার পঠিত
হোয়াইট হাউস এআই চুক্তি: সুপারইন্টেলিজেন্স সুরক্ষায় কী আছে আর কী নেই

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি কাঠামোর দাবির মধ্যেই শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি স্বেচ্ছা চুক্তি সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স নামের এই চুক্তিতে মেটা, এনভিডিয়া, গুগল, ওপেনএআই, এক্সএআই ও অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহীরা সই করেছেন। চুক্তিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নজরদারির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে চার স্তরের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউস চুক্তিতে আসলে কী আছে?

চুক্তির আওতায় কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে এবং তা তদারকির জন্য একটি অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞ দল গঠন করতে হবে। এছাড়া স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষকদের সঙ্গে কাজ করা এবং নিরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার জন্য পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এতে নিজেদের ওপর নজরদারির বিষয়টি অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।’ হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, এআই কোম্পানিগুলো আত্মনিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে।

গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দায়িত্বশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ প্রযুক্তির বিকাশ ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে এই চুক্তি একটি বাস্তবসম্মত ভিত্তি তৈরি করেছে।

চুক্তিতে কী নেই বা এর আইনি বাধ্যবাধকতা কতটুকু?

এই চুক্তিটি পুরোপুরি ঐচ্ছিক এবং এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে কোনো কোম্পানি এই শর্তগুলো না মানলে কোনো ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে প্রকাশ করা কিংবা সরকারের কোনো সংস্থাকে এই চুক্তি কার্যকরের আইনি ক্ষমতা দেয়া হয়নি।

নিরাপত্তা সুরক্ষা কীভাবে এবং কতটা বাস্তবায়ন করা হবে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কোম্পানিগুলোর হাতেই থাকছে। তবে চুক্তিতে বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পদক্ষেপগুলোকে আইন বা সরকারি নীতিমালায় রূপান্তর করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হতে পারে।

কোম্পানিগুলোর আগের অবস্থান ও নতুন প্রশ্ন

হোয়াইট হাউসের এই স্বেচ্ছা চুক্তি এমন এক সময়ে হল, যখন চুক্তিতে সই করা একাধিক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই আগে সরকারি বাধ্যবাধকতামূলক নীতিমালার দাবি তুলেছিল। গত সেপ্টেম্বরে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআইয়ের বৈশ্বিক বিষয়াবলি-প্রধান ক্রিস লেহেন বলেছিলেন, ‘শিল্পখাতের নিজস্ব মানদণ্ড কখনোই বাধ্যতামূলক ফেডারেল সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক নজরদারির বিকল্প হতে পারে না।’

গত জুনে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই এআই প্রযুক্তির ওপর আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছিলেন। জুলাইয়ে গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিসও একটি জাতীয় নজরদারি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, নতুন মডেলের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ সংক্রান্ত নিজস্ব কর্মীদের সতর্কবার্তাও সঠিকভাবে আমলে নেয়নি কিছু শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা কী প্রস্তাব দিচ্ছেন?

আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্যোগ এখন হোয়াইট হাউসের চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসেই বেশি দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার ব্যান আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিলটি পাস হলে সুপারইন্টেলিজেন্সের উন্নয়ন ও ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে এবং নিয়ম ভাঙলে ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা পর্যায়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দপ্তর গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে এতে। পাশাপাশি সিনেটর ক্রিস কুনস ও কেটি ব্রিটের নেতৃত্বে ডেটা সংগ্রহ ও মডেল সুরক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে এআই সিস্টেমস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট উত্থাপন করা হয়েছে।

‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ আসলে কী এবং ট্রাম্পের নতুন নির্দেশ

প্রযুক্তি খাতে সুপারইন্টেলিজেন্স বলতে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়, যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি নথিপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শব্দের বদলে সুপার ইন্টেলিজেন্স বা এসআই ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বর্তমান প্রচলিত সংজ্ঞার সব এআই প্রযুক্তিকেই সুপারইন্টেলিজেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নতুন ফেডারেল সংজ্ঞা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪