| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিএনএনের বিশ্লেষণ

বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, কীভাবে জবাব দেবে সৌদি?

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ইং | ১০:৫৬:১৩:পূর্বাহ্ন  |  ২২০ বার পঠিত
বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, কীভাবে জবাব দেবে সৌদি?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক হামলা মোকাবিলা করতে সৌদি আরব যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে যে রিয়াদ কীভাবে এর জবাব দেবে। কারণ ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে গত সপ্তাহে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত হুথিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

উল্টো সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে তারা। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল সেই অভিযানেরই সর্বশেষ ও ভয়াবহতম ঘটনা। ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর একদিন পরেই গতকাল রোববার আবারও একই বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের কৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে হুথিরা আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিচ্ছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ রয়েছে। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে রিয়াদের এক দশকব্যাপী যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা জোরদারের বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সম্প্রসারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে ১১ বছর ধরে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। কিন্তু এখন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তার ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন সালমানের সামনে বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে। সীমান্তের ওপারে হুথিরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। বড় বড় শহরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ তাইজের মতো নতুন এলাকাও দখলের চেষ্টা করছে তারা।

সৌদি আরবের রাজনীতি নিয়ে ধারণা রাখা লেখক আলী শিহাবি সিএনএনকে বলেন, ‘এই হুমকি চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থলপথে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী কতটা সফল হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সৌদি আরব আকাশপথে তাদের ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে।’

এখন পর্যন্ত হুথিবিরোধী ইয়েমেনি জোটকে আকাশপথে সুরক্ষা দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রেখেছে সৌদি আরব। সরাসরি স্থলযুদ্ধে বড় আকারে সেনা মোতায়েন করা থেকে বিরত থেকেছে দেশটি। তবে গত শনিবার রিয়াদে হামলার পরও এই সংযম বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইয়েমেনে বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠালে দুর্গম ভূখণ্ডে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে সৌদি। একই সঙ্গে স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও বৈশ্বিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তা-ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা

মাত্র দুই দশক আগেও হুথি ছিল ছোট একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণপন্থি আন্দোলন। ইরানের সহায়তায় সময়ের সঙ্গে তারা শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা দিয়ে ইসরাইলের তেল আবিবের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম তারা।

হুথিদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই করা দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘তারা যুদ্ধের কৌশল উন্নত করেছে। তাদের হামলা আরও আধুনিক ও জটিল হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।’

ইয়েমেনের সরকার অভিযোগ করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ানোর কাজ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়তে পারে। এগুলোতে তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাপের উৎস অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। তবে শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হুথিদের আরও উন্নত অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লদ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছে। এসব সফটওয়্যার উড্ডয়নের সময় অস্ত্রের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাদের অবস্থান হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে হওয়ায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি

হুথিদের মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন অংশীদারের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের মতো মিত্র দেশগুলোও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সহায়তার জন্য সিরিয়ার দিকেও হাত বাড়িয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে হটিয়ে দেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তবে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালানোর পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এর পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য নতুন গঠিত যৌথ কমান্ডের অধীনে ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত বছর ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

সিএনএনের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলেন সৌদি যুবরাজ। এ সময় তিনি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পকে আহ্বান জানান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাতে সম্মত হননি।

আলী শিহাবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নিলে নিঃসন্দেহে তা সহায়ক হবে। কারণ, মার্কিন বিমানগুলো স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। সৌদি বিমানগুলোকে সেই প্রক্রিয়ায় এক ধাপ পিছিয়ে থেকে কাজ করতে হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সৌদি আরবের জন্য সহায়ক হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পরও দেশটি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিস্তীর্ণ মরুভূমিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সম্পদ পরিবহনব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে তৈরি একমুখী ড্রোনের হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

রোববার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্পকে সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

হামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সৌদিরা ভালো যোদ্ধা। তবে আমার মনে হয়, হামলাটি ছিল ভয়াবহ।হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা যোগ দিতেও পারি।’


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪