সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ধরে নিয়েছে, নির্বাচনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী আজব-আজব কথা বলে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। এই নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য তারা পিআর সিষ্টেমের কথা বলে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে অগ্নিসেনা সোশাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বলেছে, জুলাই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়নি। তারা ভেবেছে, বাংলাদেশের মানুষের স্মরণশক্তি খুবই দুর্বল। ১৯৭১ সালে আন্দোলনের সময়ে এই দল বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল। দলটি বলেছে, একাত্তরে জাতি নাকি পথভ্রষ্ট ছিল। একাত্তরে পুরো জাতি অংশ নিয়েছিল। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের ছিল না।
হাফিজ বলেন, আগামী নির্বাচন বানচালে পতিত আওয়ামী লীগ দেশে ‘অনেক গন্ডগোল‘ করতে পারে। দল-মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাফিয়াদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে। শেখ হাসিনা নির্বাচনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করেনি। গণতন্ত্রকে তারা ছুড়ে ফেলে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে।
বিএনপির সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংস্কার প্রস্তাবের বেশিরভাগে রাজি। দু-একটিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। একটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি চায়। কিন্তু যে পদ্ধতি সহজ, যেটা সবাই বুঝতে পারে সেভাবেই নির্বাচন হতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সংস্কার আমাদের করতেই হবে। জাতীয় সনদ যেটা হবে, ঘোষণা হবে হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যে। কিন্তু অনেক বিষয়ে এখানে দ্বিমত আছে, আপত্তি আছে, নোট অব ডিসেন্ট আছে। আমাদেরই আছে, আমরা যেগুলোতে একমত হয়েছি, আরেকদল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে কিন্তু এটার মীমাংসার পথ কি? যারা বলছেন যে এটা না হলে আমরা নির্বাচনে যাব না, এটা তো কোনো মীমাংসার পথ হতে পারে না। হ্যাঁ, তারা যদি মনে করেন আমরা নির্বাচনে যাবো না, আন্দোলন করে আমরা যা বলছি তাই করতে হবে, সেটা তারা করতে পারেন। কিন্তু এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনকে ঠেকানোর কোনো জায়গায় তারা যেতে পারেন না।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে আমরা অনেকগুলো বিষয়ে একমত পোষণ করেছি। তবে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্রে প্রকৃত অর্থে যেই প্রত্যাশা ছিল, তার প্রতিফলন হয়নি।
রিপোর্টার্স/এমআল