সিনিয়র রিপোর্টার : রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫) নামে চার সন্তানের জনক এক নারীর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী সিফাত আলীসহ (৩০) নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও পুুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সিফাত আলী পলাতক রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেয়ার মরদেহ নিয়ে মিরপুর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে তার পরিবার ও স্বজনরা।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলায় নিহতের স্বামী সিফাত এবং তাদের গাড়িচালকসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে নিহতের স্বামীকে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সিফাত আলী কেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। হত্যার পর ফোন করে নিহতের স্বজনদের জানিয়ে পালিয়ে যান সিফাত। কেয়ার চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তাদেরকে সিফাতের বোন আটকে রেখেছে। কারো সঙ্গে দেখা, সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারেও পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়ে কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি নিহতের পরিবার।
কেয়ার ফুফু সৈয়দা ফাতেমা জাহান কলি জানান, বুধবার দিনগত রাত ২টার দিকে সিফাত তার শাশুড়ি নাজমা বেগমকে ফোন করে জানান- কেয়া খুবই অসুস্থ। আপনারা বাসায় আসেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে সিফাত একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে ‘কেয়া আর বেঁচে নেই’। পরে নিহতের মা মেয়ের বাসায় গিয়ে দেখেন সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছেন। হাসপাতালে পৌঁছার পর চিকিৎসকরা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করলে সিফাত সেখান থেকে উধাও হয়ে যান। পরে নাজমা বেগম ও তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, সিফাত বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব