| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অসময়ে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৩, ২০২৫ ইং | ০৬:৪৩:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৬০৪৬৫৮ বার পঠিত
অসময়ে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি
ছবির ক্যাপশন: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষেই পেয়েছেন সফলতা

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ):

গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে দুলছে অসংখ্য তরমুজ। এর সাথে যেনো সফলতার আনন্দ মিশে আছে কৃষকের মনে। অসময়ে তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকদের মনে নতুন এক স্বপ্নের সফলতা ধরা দিচ্ছে। প্রতিটি তরমুজ দেড় থেকে দুই কেজি হয়েছে। পরিপক্ক হতে আরো সপ্তাহ দুয়েক লাগবে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষেই পেয়েছেন সফলতা। তিনি তার ৪০ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো সুইট ব্ল্যাক-২ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ৫৫ দিনে এখন পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ৩০-৪০ হাজার টাকা৷ জমিতে ১২-১৪ শত গাছ রয়েছে৷ প্রতিটি গাছে ৪-৫ টি তরমুজ হয়েছে৷ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ মিটিয়ে কয়েকগুণ লাভের আশা করছেন ওই চাষি।

জানা যায়, একসময় যে জমি অধিকাংশ সময় পতিত থাকতো৷ নানান চাষাবাদে আশানুরূপ সফলতা আসছিলো না ঠিক সেই সময় দু’মাসের কম সময়ে তরমুজের বাম্পার ফলনে লাভবানের আশাবাদী হচ্ছে কৃষক। এদিকে কৃষক জসিমের সফলতা দেখে অন্য কৃষকেরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।


এলাকাবাসী ও উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি লাভজনক চাষাবাদ। অল্প সময়ে কম খরচে কৃষকেরা অধিক লাভবান হয়ে থাকেন। এজন্য দিনদিন এ উপজেলায় তরমুজের আবাদ বাড়ছে। মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ দিনের ফসল এটি। কৃষিকে খরপোষ কৃষি থেকে বাণিজ্যিকরণ কৃষিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলায় এবছর ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চণ্ডিপাশা ইউনিয়নেই বেশি। বুরুদিয়া ইউনিয়নেও কিছু আবাদ হয়েছে। বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে কৃষক কম সময়ে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা করছেন।

তরমুজ চাষি জসিম উদ্দিন বলেন, দুই মাসের কম সময়ে যে ফলন এসেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। মাচা তৈরিসহ এতে আমার ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভালো ফলন এসেছে। আশা করছি খরচ মিটিয়ে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত লাভবান হবো।

স্থানীয় গ্রামের কৃষক সুরুজ, কালাম, মতি মিয়া বলেন, জসিমের জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন বাজারে চাহিদা কেমন হয় তা দেখবো। ভালো মুনাফা অর্জন হলে আমরাও সিদ্ধান্ত নিবো চাষের জন্য৷

ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত জুন মাসের শেষের দিকে তিনি তরমুজ আবাদ করেন। এতে তিনি প্রথমবারেই বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে হারভেস্টিং শুরু হবে। কম সময়ে তিনি অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছি। অন্যরাও তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই-আলম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের বাণিজ্যিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে কৃষকেরা কম সময় ও খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন। গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে জসিমের মতো আরো অনেকে লাভবান হচ্ছেন। তাদের সফলতা দেখে অন্যরাও তরমুজ চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।' উজান ভাটির জেলা কিশোরগঞ্জে দিনকে দিন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা৷ এতে কৃষিতে এসেছে নতুনত্ব৷ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।



এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪