রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
রোহিঙ্গা সংকটে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদিচ্ছা ও চীন-ভারতের আন্তরিকতার অভাবকে কারণ মনে করছেন তাঁরা। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢল নামে বাংলাদেশে। কক্সবাজারে আশ্রয় নেয় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। আট বছরে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখে। গত দেড় বছরে এসেছে আরও দেড় লাখ।
রোহিঙ্গা বাড়লেও কয়েক বছর ধরে কমেছে মানবিক সহায়তা তহবিল। টানাপোড়েনের মধ্যে আশ্রয় শিবিরে বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও প্রায় বন্ধ। এর পেছনে কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দুষছেন বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কূটনীতি সঠিক ছিল না বাংলাদেশের। এককেন্দ্রিক না থেকে বহুমুখী হওয়া উচিত ছিল।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর প্রত্যাশঅ অনুযায়ী চাপ প্রয়োগ করেনি। ভারত-চীন নিজের স্বার্থেই এ বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসছে না।’
আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানামারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াও চলছে ধীর গতিতে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের অধিকার আদায় সহজ হতো। কিন্তু সেই পথে আগ্রহ নেই তাদের।
আসিফ মুনীর আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতার অভাব রয়েছে। তাই তারা তাদের অধিকার আদায়ে সংঘবদ্ধ হতে পারছে না। এখন যথেষ্ট সুযোগ ছিল। সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা বরং ছত্রভঙ্গ হয়েছে।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গণহত্যা ইস্যুতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চা করতে বাংলাদেশকে বিকল্প কূটনীত বেছে নিতে হবে।’
এ পরিস্থিতিতে ২৪ আগস্ট কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের নজর কাড়া।
এস