রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৮৭ জন শিশুর জন্ম হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার শিশু। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় শিবিরে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের ইনানী হোটেল বে ওয়াচে আয়োজিত আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সংলাপে বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখে।’
সরকারি হিসাব ও বাস্তবতা : শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তথ্যে বলা হয়েছে, শিবিরগুলোতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৭টি পরিবারের নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, সরকারি হিসাবের বাইরে আরও বহু রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ইতিমধ্যে নতুন করে ৩২ হাজার ৪১২ পরিবারের এক লাখ ২৪ হাজার ১২৮ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।
রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানান, গত এক বছরে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এর বাইরে কক্সবাজার শহর ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের তথ্যও সরকারি হিসেবে নেই।
সংকটপূর্ণ ক্যাম্প : আরআরআরসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আট হাজার একর বনভূমিতে ৩৩টি ক্যাম্পে লাখো রোহিঙ্গা ঠাসাঠাসি করে বসবাস করছে। নতুন ক্যাম্প স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, "একদিকে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ থেমে নেই, অন্যদিকে জন্মহারও বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন ছাড়া অন্য কোনো সমাধান নেই।"
পরিবার পরিকল্পনায় অনাগ্রহ : শিবিরে স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বসেবা নিয়ে কাজ করা এনজিওকর্মীরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা দম্পতিরা পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে আগ্রহী নন। সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেও সাড়া মেলে না। অনেকে একাধিক বিয়ে করেন, প্রতি স্ত্রীর সন্তানসংখ্যা গড়ে সাত থেকে আটজন। কোনো কোনো পরিবারে সদস্যসংখ্যা ১৭-১৮ জন পর্যন্ত।
এস