ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঋণের চাপ আর মানসিক অস্থিরতা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন জুমের আলী (৩৭) নামে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোরে দিনাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
জুমের আলী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া বঙ্গভিটা গ্রামের শমসের আলীর ছেলে। গত কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের বড়মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি সেখানে চালাতেন একটি ফার্মেসি।
পরিবার জানায়, কিছুদিন আগে স্ত্রীর প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে শহরে জমি কিনেছিলেন জুমের। এরপর আবারও স্ত্রী কুলসুম আক্তারের কাছে নতুন করে ঋণের কথা তুললে তিনি রাজি হননি। এর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জুমের।
কুলসুম আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কিছুদিন ধরে ওর মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। গতকাল ফেসবুকে লিখেছিল, এক মিঠু নামের লোকের কাছে অনেক টাকা পাবে, সেই কারণে তার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আমাকে ফোন করে ডাকে। বাসায় গিয়ে দেখি মাছ মারার ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছে।”
পরে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল, সেখান থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ এবং শেষে স্পেশালিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জুমেরকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ভোরেই তার মৃত্যু হয়।
জুমেরের বড় ভাই জমির আলী বলেন, “আমার ছোট ভাই ঋণের বোঝা সামলাতে পারছিল না। মানসিক অস্থিরতায় শেষ পর্যন্ত এই পথ বেছে নেয়।”
পরিবারের ধারণা, জুমের অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণে বড় অঙ্কের ঋণে জড়িয়ে পড়েন। দেনার দায় শোধ করতে না পেরে হতাশায় আত্মহত্যা করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক আশরাফ আলী বলেন, “পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। তাঁদের আবেদন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
রিপোর্টার্স ২৪/প্রীতিলতা